শ্রীমঙ্গলের সময়

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে মুরাসু, আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস

জাতীয় · 2026-11-02T03:04:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার (আইএমডি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর পরোক্ষ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থা (আইএমডি)।

আইএমডির সোমবার সকালের বুলেটিনের বরাতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওপর অবস্থান করা ঘূর্ণিঝড়টি গত ছয় ঘণ্টায় উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এর অবস্থান ছিল তামিলনাড়ুর চেন্নাই থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে। এ ছাড়া মাচিলিপত্তনম থেকে ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৩১০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে, ওঙ্গোল থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল ঘূর্ণিঝড়টি।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ নভেম্বর ভোর ৪টার মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবেই দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায়, ওঙ্গোলের কাছাকাছি এটি আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপকূল অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ ছাড়া ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার এক-দুই জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলাতেও সকালের দিকে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলাতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তাই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী সতর্কবার্তা ও পূর্বাভাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত