জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
অর্থনীতি · 2026-11-02T03:42:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আজ ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস। ‘রক্তদানে জীবনের জয়গান, চক্ষুদানে আলোর সন্ধান’ প্রতিপাদ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ ও সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির উদ্যোগে দেশব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে। স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করা এবং মৃত্যুর পর কর্নিয়া দানের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোই দিবসটির মূল লক্ষ্য।
আজ ২ নভেম্বর, জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস। স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানো এবং মৃত্যুর পর কর্নিয়া দানের মাধ্যমে দৃষ্টিহীন মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান নিয়ে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘রক্তদানে জীবনের জয়গান, চক্ষুদানে আলোর সন্ধান’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, সন্ধানী কেন্দ্রীয় পরিষদ এবং সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সোমবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হওয়ার কথা রয়েছে। শোভাযাত্রাটি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। পরে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে দিবসটির ইতিহাস জড়িয়ে আছে সন্ধানীর। ১৯৭৮ সালের ২ নভেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনটি। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালে ২ নভেম্বরকে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
স্বেচ্ছায় রক্তদানের পাশাপাশি মরণোত্তর চক্ষুদানেও কাজ করছে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি। মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছায় কর্নিয়া দানের অঙ্গীকার করলে মৃত্যুর পর সেই কর্নিয়া সংগ্রহ করে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বে আক্রান্ত ব্যক্তির চোখে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে একজন মানুষের মৃত্যুর পরও অন্য একজনের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির মহাসচিব ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে অন্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। তাঁদের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বে ভুগছেন। প্রতিবছর নতুন করে আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এ সমস্যায় যুক্ত হচ্ছেন।
সংগঠনটি জানায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকারবদ্ধ ব্যক্তি এবং বেওয়ারিশ মৃতদেহ থেকে কর্নিয়া সংগ্রহ করে আসছে তারা। পরে সংগৃহীত কর্নিয়া সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের চোখে প্রতিস্থাপন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে রক্তের সংকট মোকাবিলা এবং কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব দূর করার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ জন্য তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই মানবিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।