যেসব খাবার আর্থ্রাইটিসের সমস্যা বাড়াতে পারে, জেনে নিন কী এড়াবেন
লাইফস্টাইল · 2026-10-28T03:44:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু খাবার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও লবণ কম খাওয়া সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লাল মাংস, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস, অ্যালকোহল ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসে একই খাবার ক্ষতিকর নয়; ব্যক্তির রোগের ধরন ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।
শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে আর্থ্রাইটিস। এ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দৈনন্দিন জীবনযাপন, চলাফেরা এবং কাজকর্মে অসুবিধা হতে পারে। বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, শরীরের ওজন, রোগের ধরন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
আমরা প্রতিদিন যেসব খাবার খাই, সেগুলো শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তবে আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে সব খাবার সবার জন্য একই রকম প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না। কোনো খাবার একজনের জয়েন্টের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে, আবার অন্যজনের ক্ষেত্রে তেমন প্রভাব নাও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত আর্থ্রাইটিসের খাদ্যসংক্রান্ত সতর্কতা অন্যান্য ধরনের আর্থ্রাইটিসের চেয়ে আলাদা।
চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, আর্থ্রাইটিস সারানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার বাদ দেওয়ার সর্বজনস্বীকৃত নিয়ম নেই। তবে অতিরিক্ত চিনি, বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কিছু নির্দিষ্ট পানীয় কমানো সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন খাবারগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।
১. অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার
চিনি বেশি রয়েছে এমন খাবার ও পানীয় নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া শরীরের ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শরীরের ওজন বেশি হলে হাঁটু, কোমর ও পায়ের মতো ওজন বহনকারী জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে বিশেষ করে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের উপসর্গ সামলানো কঠিন হতে পারে।
মিষ্টি, কেক, বিস্কুট, মিষ্টিজাতীয় পানীয়, কোমল পানীয় এবং অতিরিক্ত চিনি দেওয়া চা-কফি খাওয়ার ক্ষেত্রে তাই পরিমিত থাকা ভালো। এসব খাবার সরাসরি প্রত্যেকের আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ায়, এমন প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ কমানো স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও চিনিযুক্ত পানীয়ের বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজযুক্ত পানীয় ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ও গাউটের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই নিয়মিত কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।
২. ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার
সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, ফাস্ট ফুড এবং অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে অনেক সময় ক্যালরি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। এসব খাবার নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারেও লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকতে পারে। এ ধরনের খাবারের পরিবর্তে শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ভাজাপোড়া খেলেই আর্থ্রাইটিস হবে বা জয়েন্টের প্রদাহ নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো প্রমাণ নেই। বরং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শরীরের ওজন ও শারীরিক সক্রিয়তার দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩. অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
আচার, চানাচুর, চিপস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং অতিরিক্ত লবণ দেওয়া খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি হতে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য লবণ নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে লবণ খাওয়ার কারণে সবার জয়েন্টে প্রদাহ বাড়ে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তাই আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমানোর জন্য সম্পূর্ণ লবণ বাদ দেওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ করার অভ্যাস কমান। প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় পুষ্টিতথ্য দেখে সোডিয়ামের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা নিন।
৪. লাল মাংস ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস
গরু বা খাসির মাংস এবং কলিজা, মগজ, কিডনির মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংস নিয়ে আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকের প্রশ্ন থাকে। এখানে রোগের ধরন জানা গুরুত্বপূর্ণ।
গাউট হলো এক ধরনের প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস, যা জয়েন্টে ইউরেট স্ফটিক জমার কারণে হতে পারে। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে এ ধরনের স্ফটিক তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। লাল মাংস ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাংসে পিউরিন থাকে, যা শরীরে ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করতে সাহায্য করে।
তাই গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এসব খাবার অতিরিক্ত না খাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা তৈরি করা উপকারী হতে পারে। কিছু সামুদ্রিক খাবারেও পিউরিন বেশি থাকে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে লাল মাংস পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন নয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে খাদ্যসংক্রান্ত পরামর্শ রোগের ধরন ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
৫. অ্যালকোহল ও চিনিযুক্ত পানীয়
অ্যালকোহল বিশেষ করে গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিছু ধরনের অ্যালকোহল রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা এবং গাউটের আকস্মিক আক্রমণের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। বিয়ারসহ কিছু পানীয়ের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসাবিষয়ক নির্দেশনায় সতর্ক করা হয়েছে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি বা ফ্রুক্টোজযুক্ত কোমল পানীয়ও গাউটের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অ্যালকোহল ও চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, সব ধরনের আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অ্যালকোহল পান করলেই বেড়ে যায়, এমন দাবি করা ঠিক নয়। তবে অ্যালকোহল কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করতে পারে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। ওষুধ গ্রহণের সময় অ্যালকোহল নিরাপদ কি না, তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো।
৬. দুগ্ধজাত খাবার কি আর্থ্রাইটিস বাড়ায়?
দুধ, দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারকে অনেক সময় আর্থ্রাইটিসের জন্য ক্ষতিকর বলা হয়। কিন্তু এ বিষয়ে সবার জন্য প্রযোজ্য এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। দুগ্ধজাত খাবারে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু ব্যক্তি নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর নিজেদের উপসর্গের পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সব দুগ্ধজাত খাবারকে প্রদাহের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
দুধ খেলে অ্যালার্জি, পেটের সমস্যা বা অন্য কোনো অসুবিধা হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন ছাড়া পুরো খাদ্যগোষ্ঠী বাদ দিলে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিকল্প খাবার বেছে নেওয়ার সময়ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
৭. অতিরিক্ত পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার
সাদা পাউরুটি, ময়দার তৈরি কিছু খাবার, বিস্কুট ও অন্যান্য পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার সহজে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়ে যেতে পারে। এসব খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি যুক্ত থাকলে মোট ক্যালরি গ্রহণও বেড়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত পরিশোধিত শর্করাযুক্ত খাবার কমিয়ে আঁশসমৃদ্ধ শস্য, শাকসবজি, ফল ও ডাল খাদ্যতালিকায় রাখলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সুবিধা হয়। তবে সব পরিশোধিত শর্করা সরাসরি আর্থ্রাইটিসের প্রদাহ বাড়ায়—এমন প্রমাণ নেই। খাবারের সামগ্রিক গুণগত মান ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়াই বেশি কার্যকর।
আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার কেমন হওয়া উচিত?
শুধু কয়েকটি খাবার বাদ দিলেই আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এমন নয়। বরং পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন খাবারে নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন:
শাকসবজি ও ফল: বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও ফল থেকে ভিটামিন, খনিজ ও আঁশ পাওয়া যায়।
মাছ ও উপযুক্ত প্রোটিন: ব্যক্তির রোগের ধরন ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী মাছ, ডিম, ডাল ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন।
আঁশসমৃদ্ধ খাবার: সম্পূর্ণ শস্য, ডাল ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
স্বাস্থ্যকর চর্বি: বাদাম, বীজ ও উপযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেলের মতো উৎস থেকে স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়।
পর্যাপ্ত পানি: শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পানি পান করুন। বিশেষ করে গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পানিশূন্যতা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যকর ওজন: ওজন বেশি হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করুন।
ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাসের মতো শাকসবজি, ফল, মাছ, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ খাদ্যপদ্ধতি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস আর্থ্রাইটিস সম্পূর্ণ সারিয়ে দেয়, এমন দাবি করা যায় না।
খাবার পরিবর্তনের আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি
আর্থ্রাইটিস একক কোনো রোগ নয়। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও গাউটের কারণ ও চিকিৎসাপদ্ধতি আলাদা। তাই কোন খাবার কমাতে হবে, তা রোগের ধরন, ওষুধ, অন্যান্য স্বাস্থ্যসমস্যা এবং ব্যক্তির পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
কোনো খাবার খাওয়ার পর বারবার উপসর্গ বাড়ছে বলে মনে হলে খাবার ও উপসর্গের একটি ডায়েরি রাখতে পারেন। এতে কোন খাবারের সঙ্গে উপসর্গের পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে, তা বুঝতে সুবিধা হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একসঙ্গে অনেক খাবার বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব বা শক্ত হয়ে থাকার সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গাউটের ক্ষেত্রে শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেই সব সময় ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না; প্রয়োজনে ওষুধেরও দরকার হতে পারে। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
উপসংহার
আর্থ্রাইটিসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসের জন্য একই খাবার নিষিদ্ধ, এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও লবণ কমানো সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আর গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল, চিনিযুক্ত পানীয় এবং পিউরিনসমৃদ্ধ কিছু খাবার নিয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।
দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তাই প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে খাদ্যতালিকা তৈরি করুন। সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, স্বাস্থ্যকর ওজন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, এই সমন্বিত পদ্ধতিই আর্থ্রাইটিসের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।