শ্রীমঙ্গলের সময়

সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যকর, যা বলছেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল · 2026-10-26T03:04:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করে শুধু খাবারের সময়ের ওপর নয়; বরং পরিমাণ, খাবারের বৈচিত্র্য ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যের ওপরও। ভাতের সঙ্গে ডিম, ডাল, মাছ ও সবজি রাখলে নাশতায় পুষ্টির ভারসাম্য আনা যায়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সকালের খাবার নিয়ে অনেকেরই নির্দিষ্ট অভ্যাস রয়েছে। কেউ রুটি বা ওটস খান, কেউ পাউরুটি কিংবা ফলমূল বেছে নেন। আবার অনেক বাঙালির কাছে ভাতই সকালের পছন্দের খাবার। কিন্তু ভাত দিয়ে দিন শুরু করলে শরীরের জন্য তা কতটা উপযোগী—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খাবারের পরিমাণ ও পুষ্টির সমন্বয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথশটসের প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ নেহা পাঠানিয়ার পরামর্শ অনুযায়ী, পরিমিত ভাত সকালের নাশতার অংশ হতে পারে। তবে এক বাটি ভাত খেয়েই নাশতা শেষ করার পরিবর্তে সঙ্গে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা ভালো।

ভাতের সঙ্গে কী থাকছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ

ভাত শরীরে শক্তি জোগানোর জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট সরবরাহ করে। সকালে কাজ শুরু করার আগে এই শক্তি কাজে লাগতে পারে। তবে শুধু কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর করলে খাবারে পুষ্টির বৈচিত্র্য কম থাকতে পারে।

নাশতায় ভাতের সঙ্গে ডিম, মাছ কিংবা ডাল রাখলে প্রোটিন পাওয়া যায়। পাশাপাশি শাকসবজি যোগ করলে খাদ্যে আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের বৈচিত্র্য বাড়ে। অর্থাৎ, সকালের খাবারে ভাত থাকলেও তার সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে, তা সামগ্রিক পুষ্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চালের ধরন বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিকল্প রয়েছে। সাদা চালের পাশাপাশি লাল চাল বা কম প্রক্রিয়াজাত চাল খাওয়া যেতে পারে। তবে চালের ধরন পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়; খাবারের পরিমাণ ও অন্যান্য উপাদানের সমন্বয়ও বিবেচনায় রাখা দরকার।

ডায়াবেটিস থাকলে ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ভাতের পরিমাণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভাতের কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। এর প্রভাব কতটা হবে, তা খাওয়ার পরিমাণ, চালের ধরন এবং সঙ্গে থাকা অন্যান্য খাবারের ওপর নির্ভর করতে পারে।

তাই ডায়াবেটিস থাকলে সবার জন্য একই পরিমাণ ভাত উপযুক্ত—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। ভাতের সঙ্গে সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখাও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও শুধু ভাত খাওয়া হচ্ছে কি না, সেটি দিয়ে পুরো খাদ্যাভ্যাসের মূল্যায়ন করা যায় না। সারাদিনে মোট কতটা খাবার গ্রহণ করা হচ্ছে, শরীর কতটা সক্রিয় থাকছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি নেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হয়।

ভাত খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় কি আছে?

সকালে, দুপুরে কিংবা রাতে—যেকোনো সময়ের খাবারেই ভাত রাখা সম্ভব। শুধু রাতে ভাত খেলেই ওজন বাড়বে বা শরীরের ক্ষতি হবে, এমন সিদ্ধান্তের যথেষ্ট ভিত্তি নেই। খাবারের সময়ের পাশাপাশি সারাদিনের খাদ্যাভ্যাস, মোট খাবারের পরিমাণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নিজের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ না করা এবং নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। ডায়াবেটিসসহ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী খাবারের পরিকল্পনা করা উচিত।

সব মিলিয়ে, সকালের নাশতায় ভাত খাওয়া নিয়ে এককভাবে ভালো বা খারাপ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। পরিমিত ভাতের সঙ্গে প্রোটিন ও সবজি রাখা, নিজের শারীরিক চাহিদা বুঝে খাবারের পরিমাণ ঠিক করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত