শ্রীমঙ্গলের সময়

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

অর্থনীতি · 2026-10-28T15:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ৩০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন অপারেটররা। এ প্রস্তাবের পাশাপাশি মজুত, বোতলজাতকরণ ও পরিবেশক-খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানোর বিষয়েও গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অপারেটরদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা দামের সিলিন্ডারের মূল্য বাড়িয়ে ২ হাজার ১৩৭ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে প্রতি সিলিন্ডারে ভোক্তাকে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা গুনতে হবে।

বর্তমান দামের তুলনায় প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে অপারেটরদের প্রস্তাব জমা পড়লেই তা কার্যকর হয়ে যায় না। গণশুনানিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, ব্যয়ের হিসাব ও ভোক্তাদের স্বার্থ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি।

বিইআরসির গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল অডিটোরিয়ামে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ের মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চার্জ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) পক্ষ থেকে গত ১৮ অক্টোবর বিইআরসির কাছে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, গত কয়েক বছরে এলপিজি আমদানি ও ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ব্যয় বেড়েছে। বর্তমান মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে এসব ব্যয়ের পুরো প্রতিফলন না থাকায় দাম ও সংশ্লিষ্ট চার্জ পুনর্নির্ধারণ প্রয়োজন।

লোয়াবের হিসাবে, এলপিজির দাম নির্ধারণে ল্যান্ডিং চার্জ, লেভি চার্জ, রিভার ডিউজ, কাস্টমস সার্ভে ও পোর্ট চার্জসহ বিভিন্ন খাতে প্রতি মেট্রিক টনে ৩০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়। অথচ এসব খাতে প্রকৃত ব্যয় ৩৮০ টাকা বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া ঋণপত্র বা এলসি চার্জ, বিমা ব্যয়, সিঅ্যান্ডএফ কমিশন এবং ডিসপোর্ট ইন্সপেকশন চার্জের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত ব্যয়ের পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি অপারেটরদের। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে এসব খাতে প্রকৃত ব্যয় ২৫ টাকা ১০ পয়সা হলেও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে ধরা হয় ৮ টাকা ৮০ পয়সা। এ কারণে প্রতি সিলিন্ডারে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং উৎপাদন, কারখানা পরিচালনা, পরিবহন ও বিতরণ ব্যয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে লোয়াব। সংগঠনটির দাবি, প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের পরিবহন ও বিতরণ ব্যয় বাবদ নির্ধারিত ২২ টাকা ৯ পয়সার বিপরীতে প্রকৃত ব্যয় ৪৫ থেকে ৬০ টাকা। একইভাবে কারখানা পরিচালনার ব্যয় ও সিলিন্ডারের অবচয় বাবদ নির্ধারিত অর্থও পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করে সংগঠনটি।

অপারেটরদের মুনাফা বৃদ্ধির প্রস্তাবও গণশুনানিতে আলোচনায় আসবে। বর্তমানে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের জন্য মুনাফা ও করপোরেট ট্যাক্স বাবদ ৩৩ টাকা ধরা হলেও তা বাড়িয়ে প্রায় ১৪০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে লোয়াব। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংগঠনটির মতে, মূল্যস্ফীতি ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান চার্জে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে এসব প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তাঁর মতে, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি বিইআরসির সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি প্রস্তাবের পেছনে দেখানো যুক্তিগুলোকে অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে লোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, অপারেটররা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেই বিইআরসি তা অনুমোদন করবে, এমন নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাব জমা দেওয়ার সময় ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা, যা পরবর্তী সময়ে বেড়েছে।

এদিকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। সরবরাহ করা তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে নির্ধারিত দাম কার্যকর করা এবং বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গণশুনানিতে কোম্পানিগুলোর ব্যয় ও মুনাফা বৃদ্ধির দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত