৩ বছর ৬ মাস পর পুলিশের সহযোগিতায় ফিরে পেয়েছেন হারানো শখের মোবাইল ফোন
সারাদেশ · 2026-10-26T07:36:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে হারিয়ে যাওয়া Samsung Galaxy A52 ফোনটি ১ হাজার ২৯৬ দিন পর লালমনিরহাটের আদিতমারী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফোনটি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। মোবাইল হারালে অনলাইনে জিডি করার নিয়ম ও নিরাপত্তা করণীয়ও জেনে নিন।
একটি শখের মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার পর কেটে গেছে তিন বছর ছয় মাসেরও বেশি সময়। মালিকের আশা প্রায় শেষ হয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফোনটি উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া Samsung Galaxy A52 মডেলের ফোনটি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
হারানো ফোনটির মালিক শান্তা আক্তার। তাঁর করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অনুযায়ী, ঘটনার দিন নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পরই তিনি সিরাজদিখান থানায় জিডি করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফোনটি ফিরে পাননি। একপর্যায়ে ফোনটি উদ্ধারের আশা ছেড়ে দেন তিনি।
সম্প্রতি ওই জিডির কপি ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে উদ্ধারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়। এরপর শান্তা আক্তারের পক্ষ থেকে ফোনটি উদ্ধারের শেষ চেষ্টা চালানোর অনুরোধ করা হয়। সেই আবেদনের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী এলাকা থেকে ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফোনটি হারানোর পর থেকে উদ্ধারের খবর পাওয়া পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান তিন বছর ছয় মাস ১৭ দিন, অর্থাৎ মোট ১ হাজার ২৯৬ দিন। দীর্ঘ সময় পর ফোনটি উদ্ধারের এই ঘটনা হারানো মোবাইলের সন্ধানে থাকা অন্যদের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে। তবে ফোনটি উদ্ধার হওয়ার অর্থ এই নয় যে সব হারানো ফোন একইভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে পাওয়া তথ্য, জিডির বিবরণ এবং অনুসন্ধানের সুযোগ ভিন্ন হতে পারে।
উদ্ধারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফোনটি মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং আশা করা হচ্ছে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সেটি শান্তা আক্তারের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে ফোন হস্তান্তর সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্তভাবে মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলা যাচ্ছে না।
মোবাইল ফোন হারালে অনেকেই প্রথমে খোঁজাখুঁজি করেন, পরে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু ফোন হারানোর পর দ্রুত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা এবং ফোনটির পরিচিতিমূলক তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফোনের আইএমইআই নম্বর, মডেল, রং, হারানোর স্থান ও সময় এবং কেনার রসিদ থাকলে সেগুলো অনুসন্ধানে সহায়ক হতে পারে। ফোনের বাক্স, ক্রয় রসিদ বা আগে সংরক্ষণ করা নথিতে আইএমইআই নম্বর পাওয়া যেতে পারে। ডুয়াল সিমের ফোন হলে একাধিক আইএমইআই নম্বরও থাকতে পারে।
বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি ব্যবস্থার মাধ্যমে হারানো মোবাইল ফোনের বিষয়ে ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন জিডি পোর্টাল https://gd.police.gov.bd/ ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে Google Play Store থেকে ‘Online GD’ নামে বাংলাদেশ পুলিশের সরকারি অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, সচল মোবাইল নম্বর এবং লাইভ ছবি প্রয়োজন হয়। পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
নিবন্ধনের পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে হারানো-সংক্রান্ত অভিযোগের ধরন নির্বাচন করতে হবে। এরপর ফোন হারানোর জেলা, থানা, স্থান, তারিখ ও আনুমানিক সময় উল্লেখ করতে হবে। মোবাইলের ব্র্যান্ড ও মডেল, রং, আইএমইআই নম্বর এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ যতটা সম্ভব নির্ভুলভাবে দিতে হবে। প্রাসঙ্গিক নথি বা ছবি সংযুক্ত করার সুযোগ থাকলে সেগুলোও দেওয়া যেতে পারে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদন জমা দিতে হবে এবং আবেদন নম্বর বা জিডির কপি সংরক্ষণ করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে জিডির অগ্রগতি দেখা যায়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে অনলাইনে আবেদন করলেই ফোন উদ্ধার নিশ্চিত হয় না। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী পুলিশ অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে কিংবা থানায় উপস্থিত হতে বলতে পারে। অনলাইন ব্যবস্থায় অসুবিধা হলে বাংলাদেশ পুলিশের প্রকাশিত সহায়তা নম্বর ০১৩২০০০১৪২৮-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে। সরাসরি থানায় গিয়েও জিডি করার সুযোগ রয়েছে।
ফোন হারানোর পর শুধু জিডি করেই থেমে থাকা উচিত নয়। ফোনে ব্যবহৃত সিমের অপারেটরকে দ্রুত জানিয়ে সিম বন্ধ বা পুনরায় ইস্যুর ব্যবস্থা নিতে হবে। ফোনে ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট লগইন করা থাকলে সেগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। ফোনে থাকা ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অন্যদিকে, নিজের ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার বৈধ সুবিধা আগে থেকে চালু থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্মাতার অফিসিয়াল সেবার মাধ্যমে চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে নিজে ঝুঁকি নিয়ে সন্দেহভাজন কারও মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়; পাওয়া তথ্য পুলিশকে জানানোই নিরাপদ পথ।
হারানো ফোন উদ্ধারের জন্য জিডির কপি, আইএমইআই নম্বর এবং ফোনের মালিকানা প্রমাণের কাগজপত্র যত্ন করে রাখা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিডির ছবি প্রকাশ করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ফোন নম্বর, ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য ঢেকে রাখা উচিত। কোনো ব্যক্তি ফোন উদ্ধারের নামে টাকা চাইলে পরিচয় ও দাবির সত্যতা যাচাই না করে অর্থ দেওয়া উচিত নয়।
উদ্ধারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, যাঁরা তাঁদের হারানো মোবাইল ফোনের জিডির কপি পাঠিয়েছেন, তাঁদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ করা হচ্ছে। তিনি জানান, অন্যদের ফোন উদ্ধারের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে প্রতিটি ফোন উদ্ধারের অগ্রগতি আলাদা হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব ফোন উদ্ধার হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
দীর্ঘ ১ হাজার ২৯৬ দিন পর শান্তা আক্তারের হারানো ফোন উদ্ধারের খবর তাই একদিকে যেমন আশার, অন্যদিকে তেমনি মনে করিয়ে দেয়—মোবাইল হারালে দ্রুত জিডি করা, আইএমইআইসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ এবং পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।