নতুন পে স্কেলে চলতি মাসে মিলতে পারে তিন মাসের বকেয়া
জাতীয় · 2026-10-26T07:53:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
নতুন পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। আইবাসে তথ্য হালনাগাদের পর চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আপাতত ভাতা আগের হারেই বহাল থাকবে।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বর্ধিত বেতন বা বকেয়া পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ অর্থ চলতি মাসেই পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও আপাতত ভাতার পরিমাণ বাড়ছে না।
গত ৫ অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মচারীরা আইবাসে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করছেন। বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হওয়ায় নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এর ফলে আগের তিন মাসের বর্ধিত বেতন একসঙ্গে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হয়েছে, আপাতত সেই হারই বহাল থাকবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এতে কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়লেও ভাতার হার অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত মোট প্রাপ্তিতে ভাতার অংশ বাড়ছে না।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজনীয় হলেও শুধু বেতন বাড়িয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, দুর্নীতি কমাতে নজরদারি, জবাবদিহি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, বেতন বাড়ানো ভালো এবং এটি প্রয়োজন ছিল। তবে দুর্নীতি দমনে নজরদারি জোরদার করতে হবে এবং দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, “মনিটরিং জোরদার না করলে এবং দুর্নীতিবাজদের কঠোরভাবে দমন না করলে মাসিক বেতন এক কোটি টাকা করলেও যারা দুর্নীতি করেন, তারা তা করতেই থাকবেন। আর যারা দুর্নীতি করেন না, তারা করবেন না।”
তাঁর মতে, বেতন বাড়লেই দুর্নীতি কমবে—এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধের ব্যবস্থাও কার্যকর করতে হবে।
নতুন বেতনকাঠামোর কারণে মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রভাব সবার ওপর সমান হবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ও দেশের মোট জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তাঁর ভাষ্য, বেতন বৃদ্ধির ফলে অর্থের সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে তা এতটা বাড়বে না যে মূল্যস্ফীতিকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়তে পারে। এ কারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের আগের তিন মাসের বর্ধিত বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি মাসেই বকেয়া পরিশোধ হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। পাশাপাশি আপাতত ভাতা আগের হারেই বহাল থাকছে।