শ্রীমঙ্গলের সময়

চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করল নর্থ সাউথ

শিক্ষা · 2026-10-26T07:33:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ‘২+১+১’ যৌথ স্নাতক প্রোগ্রাম চালু করেছে বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (এনএসইউ)। চীনের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়।

চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ স্নাতক প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ‘২+১+১’ কাঠামোর এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

চীনের ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের দংলু ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক চীন-দক্ষিণ এশিয়া সভ্যতা ও সংযোগবিষয়ক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক সই হয়। সম্মেলনে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ৬০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক অংশ নেন।

সমঝোতা স্মারকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নাসর ইউ আহমেদ এবং ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াং শাওজুন স্বাক্ষর করেন। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে সম্প্রীতি, সবার জন্য ঐক্য’। এতে সভ্যতাগত সংলাপ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সম্মেলনের আয়োজক ছিল ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব এথনোলজি অ্যান্ড সোসিওলজি এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর চায়না-সাউথ এশিয়া সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সাউথওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার এথনিক মাইনরিটি স্টাডিজ সম্মেলনটি আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরেন। ২০০৬ সালে এনএসইউতে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ সহযোগিতার সূচনা হয়। পরে ২০২৩ সালে চায়না-সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর সোশিও-কালচারাল স্টাডিজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তা আরও বিস্তৃত হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। নতুন যৌথ স্নাতক প্রোগ্রামটি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমিক বিনিময় বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।

সম্মেলনে চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্ক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক করিডর, অবকাঠামোগত যোগাযোগ, গণমাধ্যম, জনস্বাস্থ্য এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। পরবর্তী দুই দিনে গবেষকেরা সাতটি সমান্তরাল অধিবেশনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত