শ্রীমঙ্গলের সময়

আপনার ফোন আসল নাকি নকল? ঘরে বসেই যাচাই করার সহজ উপায়

প্রযুক্তি · 2026-11-01T00:50:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

স্মার্টফোন আসল নাকি নকল বুঝবেন কীভাবে? ঘরে বসেই IMEI, BTRC NEIR, মডেল নম্বর ও ওয়ারেন্টি যাচাই করার সহজ পদ্ধতি জেনে নিন।

নতুন স্মার্টফোন কেনার পর সেটি আসল নাকি নকল, তা নিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ থাকে। বিশেষ করে বাজারে বিভিন্ন দামের ফোন, অননুমোদিতভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট এবং নকল বা ক্লোন করা ডিভাইসের কারণে ক্রেতাদের সতর্ক থাকা জরুরি। বাইরে থেকে দেখতে একেবারে আসল ফোনের মতো হলেও কোনো কোনো হ্যান্ডসেটের ভেতরে থাকতে পারে ভিন্ন হার্ডওয়্যার, নকল সফটওয়্যার কিংবা অন্য ফোনের পরিচয় ব্যবহার করা IMEI নম্বর।

তবে ফোন যাচাই করার জন্য সব সময় দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘরে বসেই ফোনের পরিচয়, IMEI নম্বর এবং নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করা যায়। বাংলাদেশে ফোন কেনার আগে বিশেষ করে IMEI যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমেই IMEI নম্বর পরীক্ষা করুন

প্রতিটি মোবাইল ফোনে সাধারণত একটি ১৫ সংখ্যার IMEI নম্বর থাকে। এটি ফোনের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। ডুয়াল সিম ফোনে সাধারণত দুটি IMEI নম্বর থাকে।

IMEI নম্বর জানতে ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#06# লিখুন। স্ক্রিনে ফোনের IMEI নম্বর দেখা যাবে। চাইলে ফোনের Settings থেকে About Phone বা About Device অপশনেও এই নম্বর খুঁজে পেতে পারেন।

এরপর ফোনের IMEI নম্বরটি বক্সে থাকা স্টিকার, ক্রয় রসিদ এবং ফোনের সেটিংসে প্রদর্শিত নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। তিন জায়গায় নম্বর আলাদা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা দরকার।

তবে মনে রাখবেন, IMEI নম্বর মিললেই ফোনটি নিশ্চিতভাবে আসল প্রমাণিত হয় না। নকল ফোনেও অন্য ডিভাইসের IMEI ব্যবহার করা হতে পারে। তাই পরবর্তী ধাপগুলোও অনুসরণ করুন।

বাংলাদেশে BTRC-এর মাধ্যমে ফোনের বৈধতা যাচাই

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই করার জন্য বিটিআরসির NEIR (National Equipment Identity Register) ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের IMEI নম্বর ব্যবহার করে ডিভাইসটি বৈধভাবে আমদানি বা উৎপাদিত হয়েছে কি না, নিবন্ধিত কি না এবং ব্ল্যাকলিস্টেড বা চুরি হওয়া ফোন হিসেবে চিহ্নিত কি না—এসব তথ্য যাচাই করা যায়।

নতুন ফোন কেনার আগে এসএমএসের মাধ্যমে যাচাই করতে পারেন।

1. ফোনের ডায়াল প্যাডে *#06# লিখে ১৫ সংখ্যার IMEI নম্বর বের করুন।

2. মোবাইলের মেসেজ অপশনে লিখুন KYD এরপর একটি স্পেস দিয়ে IMEI নম্বর দিন। উদাহরণ: KYD 123456789012345

3. মেসেজটি পাঠিয়ে দিন 16002 নম্বরে।

4. ফিরতি এসএমএসে ফোনটির বৈধতা-সংক্রান্ত তথ্য পাবেন।

এ ছাড়া বিটিআরসির সরকারি NEIR পোর্টালেও IMEI নম্বর দিয়ে যাচাই করা যায়: BTRC NEIR Citizen Portal।

পুরোনো বা বর্তমানে ব্যবহৃত ফোনের নিবন্ধন ও অবস্থা জানতে *16161# ডায়াল করে নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, নতুন ফোন কেনার আগে ১৬০০২ নম্বরে KYD পদ্ধতি এবং ব্যবহৃত ফোনের অবস্থা যাচাইয়ে NEIR পোর্টাল বা *16161# ব্যবহার করা যায়।

ফোনের IMEI ও মডেল নম্বর মিলিয়ে দেখুন

ফোনটি আসল কি না বুঝতে শুধু IMEI যাচাই করলেই হবে না। ফোনের Settings থেকে About Phone বা About Device অপশনে গিয়ে মডেল নম্বর, সিরিয়াল নম্বর ও অন্যান্য তথ্য দেখুন। এরপর ফোনের বক্সে থাকা তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

যদি ফোনের সেটিংসে এক মডেলের নাম দেখায়, অথচ বক্সে অন্য মডেলের তথ্য থাকে, তাহলে সতর্ক হোন। একইভাবে ফোনের ক্যামেরা, ডিসপ্লে, প্রসেসর ও স্টোরেজের তথ্য নির্মাতার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারেন।

ব্র্যান্ডের ওয়েবসাইটে ওয়ারেন্টি যাচাই করুন

স্মার্টফোনের ব্র্যান্ডভেদে সিরিয়াল নম্বর বা IMEI ব্যবহার করে ওয়ারেন্টি ও ডিভাইসের তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে। যেমন স্যামসাং, অ্যাপল, শাওমি, ভিভো ও অপোর মতো ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সাপোর্ট বা সার্ভিস চ্যানেলে যোগাযোগ করে ফোনের মডেল ও ওয়ারেন্টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

বিশেষ করে নতুন ফোন কেনার সময় বিক্রেতার কাছ থেকে ওয়ারেন্টি কার্ড, ক্রয় রসিদ এবং আমদানিকারক বা পরিবেশকের তথ্য বুঝে নিন। শুধু দোকানদারের মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করবেন না।

নকল ফোন চেনার আরও কিছু লক্ষণ

কোনো ফোন নকল কি না, তা বোঝার জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল করতে পারেন।

  • অস্বাভাবিক কম দাম: বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে ফোন বিক্রি হলে কারণ জেনে নিন।

  • সফটওয়্যারের অসংগতি: ফোনের সেটিংস, মডেল নম্বর ও ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকলে সতর্ক হোন।

  • ক্যামেরা ও ডিসপ্লের মান: বিজ্ঞাপনে দেওয়া স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতা না মিললে ফোনটি ভালোভাবে পরীক্ষা করুন।

  • অস্বাভাবিক বক্স ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী: প্যাকেটের প্রিন্ট, সিল, চার্জার ও অন্যান্য সামগ্রীর মান সন্দেহজনক হলে যাচাই করুন।

  • ওয়ারেন্টি না থাকা: বিক্রেতা বৈধ ওয়ারেন্টি বা ক্রয় রসিদ দিতে না চাইলে ফোনটি কেনা থেকে বিরত থাকুন।

তবে এসব লক্ষণ একা নকল ফোনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। ফোনের সফটওয়্যার, বাজারভেদে মডেল এবং আমদানির ধরন অনুযায়ী কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আসল ফোন আর অফিসিয়াল ফোন এক নয়

এখানে অনেক ক্রেতা একটি বিষয় গুলিয়ে ফেলেন। আসল ফোন এবং অফিসিয়াল ফোন একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না। কোনো ফোন আসল ব্র্যান্ডের পণ্য হলেও সেটি বাংলাদেশে অননুমোদিতভাবে আমদানি করা হতে পারে। আবার কোনো ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হলেও সেটির ওয়ারেন্টি বা বিক্রয়-পরবর্তী সেবা সম্পর্কে আলাদা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার।

একইভাবে IMEI যাচাইয়ে ফোন বৈধ দেখালেই সেটি শতভাগ আসল প্রমাণিত হয় না। নকল বা ক্লোন ফোনে অন্য ডিভাইসের IMEI ব্যবহার করা হতে পারে। তাই IMEI যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টি, মডেল নম্বর, সিরিয়াল নম্বর ও ফোনের সফটওয়্যারও পরীক্ষা করুন।

ব্যবহৃত ফোন কেনার আগে যা করবেন

পুরোনো বা ব্যবহৃত স্মার্টফোন কেনার সময়ও একইভাবে IMEI যাচাই করা জরুরি। বিক্রেতার সামনে ফোনে *#06# ডায়াল করে IMEI নম্বর বের করুন। এরপর NEIR পোর্টাল বা *16161# ব্যবহার করে ফোনের অবস্থা যাচাই করুন।

ফোনটি চুরি হওয়া বা ব্ল্যাকলিস্টেড হিসেবে চিহ্নিত কি না, সেটিও নিশ্চিত হোন। পাশাপাশি আগের মালিকের কাছ থেকে ক্রয় রসিদ বা মালিকানার প্রমাণ সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনে আগের মালিককে দিয়ে NEIR-এর নিয়ম অনুযায়ী ডি-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করিয়ে নিন।

সবশেষে, স্মার্টফোন কেনার সময় শুধু দাম বা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কেনার আগেই IMEI যাচাই, ব্র্যান্ডের ওয়ারেন্টি পরীক্ষা এবং মডেলের তথ্য মিলিয়ে নিলে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কয়েক মিনিটের এই যাচাই আপনাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত