শ্রীমঙ্গলের সময়

Xiaomi, OPPO, Vivo নাকি iPhone 18 Pro Max—ক্যামেরায় সেরা কোনটি?

প্রযুক্তি · 2026-10-31T11:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

Xiaomi, OPPO ও Vivo ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং উন্নত টেলিফটো প্রযুক্তির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরা প্রতিযোগিতায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। পরীক্ষার নমুনায় OPPO-এর রঙ তুলনামূলক স্বাভাবিক, Xiaomi-এর ছবি প্রাণবন্ত এবং Vivo-এর ছবি বেশি উজ্জ্বল দেখা গেছে। অন্যদিকে iPhone 18 Pro Max-এর কিছু ছবিতে কম এক্সপোজার ও ধূসর ভাব পাওয়া গেছে।

স্মার্টফোনের ক্যামেরা প্রযুক্তিতে ২০২৬ সালে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে Xiaomi 18 Pro Max, OPPO Find X10 Pro Max, Vivo X500 Pro Max এবং Apple iPhone 18 Pro Max। চারটি ফোনেই নিজস্ব ক্যামেরা প্রযুক্তি ও ইমেজ প্রসেসিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে নির্মাতারা। Xiaomi ক্যামেরায় Leica-র ইমেজিং স্টাইলকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, OPPO ব্যবহার করেছে তিনটি ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, Vivo উন্নত করেছে টেলিফটো ও ভিডিও সক্ষমতা। অন্যদিকে Apple এবার iPhone-এর প্রধান ক্যামেরায় পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার যুক্ত করেছে।

তবে ক্যামেরার প্রতিযোগিতায় শুধু মেগাপিক্সেল বা সেন্সরের সংখ্যা দিয়ে সেরা ফোন নির্বাচন করা যায় না। ছবির রঙ কতটা স্বাভাবিক, আলো ও ছায়ার ভারসাম্য কেমন, কম আলোতে ডিটেইল কতটা ধরে রাখতে পারে এবং জুম ব্যবহারে ছবির মান কেমন থাকে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা Lei Technology-এর পরীক্ষায় চারটি ফোনের ক্যামেরা দিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ছবি তোলা হয়েছে। সেই পরীক্ষার বর্ণনা অনুযায়ী, Xiaomi, OPPO ও Vivo প্রত্যেকের ক্যামেরায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু নমুনায় iPhone 18 Pro Max-এর ছবি তুলনামূলক কম উজ্জ্বল ও কিছুটা ধূসর মনে হয়েছে। তবে এই ফলাফলকে সব পরিস্থিতিতে চার ফোনের চূড়ান্ত ক্যামেরা র‌্যাঙ্কিং হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

চার ফোনের ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে বড় পার্থক্য

এবারের ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর ক্যামেরা কনফিগারেশনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর। বিশেষ করে Xiaomi ও OPPO এই প্রযুক্তিকে আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করেছে।

Xiaomi 18 Pro Max-এ রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের Light Hunter 960L প্রধান ক্যামেরা এবং ২০০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরাটির সমতুল্য ফোকাল লেন্থ ৭৫ মিলিমিটার। Leica-র ইমেজিং সহযোগিতায় ফোনটি ছবির রঙ, কনট্রাস্ট ও সামগ্রিক উপস্থাপনায় নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছে।

OPPO Find X10 Pro Max-এর ক্যামেরা ব্যবস্থা আরও ব্যতিক্রমী। ফোনটিতে প্রধান ক্যামেরা, আল্ট্রাওয়াইড ক্যামেরা এবং টেলিফটো—তিনটি লেন্সেই ২০০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এতে রয়েছে ৭০ মিলিমিটারের টেলিফটো লেন্স এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের Danxia Color Restoration প্রযুক্তি। জটিল আলোতে রঙের স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এই প্রযুক্তির অন্যতম লক্ষ্য।

Vivo X500 Pro Max-এর ক্ষেত্রে প্রধান আকর্ষণ ২০০ মেগাপিক্সেলের Zeiss APO সুপার টেলিফটো ক্যামেরা। এতে ১/১.৪ ইঞ্চি সেন্সর ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্চ রেজল্যুশনের পাশাপাশি বড় সেন্সর থাকায় বেশি জুমে ছবি তোলার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রপ করার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। ফোনটিতে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরাও রয়েছে।

অন্যদিকে iPhone 18 Pro Max তিনটি ৪৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবহার করেছে। মেগাপিক্সেলের সংখ্যায় অন্য তিনটি ফোনের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও Apple এবার প্রধান ক্যামেরায় চার ধাপের পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার যুক্ত করেছে। F1.48 থেকে F4 পর্যন্ত অ্যাপারচার পরিবর্তনের সুবিধা ব্যবহারকারীকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্যামেরায় প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিতে পারে। একই সঙ্গে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা ডেপথ অব ফিল্ডেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

অর্থাৎ, Xiaomi ও OPPO যেখানে উচ্চ মেগাপিক্সেলের সেন্সরকে গুরুত্ব দিচ্ছে, Vivo সেখানে টেলিফটো ফটোগ্রাফিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। Apple আবার ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ও অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এনেছে।

ওজনে কোন ফোনটি বেশি সুবিধাজনক?

ক্যামেরা পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ছবি তোলার ক্ষেত্রে ফোনের ওজনও গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণ, অনুষ্ঠান কিংবা বাইরে ঘোরাঘুরির সময় একটানা ফোন হাতে রেখে ছবি তুলতে হলে অতিরিক্ত ওজন অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

Lei Technology-এর পরীক্ষায় চারটি ফোনের ওজন মাপা হয়েছে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, Vivo X500 Pro Max-এর ওজন ২৩৩.৬ গ্রাম, OPPO Find X10 Pro Max-এর ২৩৭.৪ গ্রাম, Xiaomi 18 Pro Max-এর ২৪৪.৮ গ্রাম এবং iPhone 18 Pro Max-এর ওজন ২৬০.২ গ্রাম পাওয়া গেছে।

এই পরিমাপে iPhone 18 Pro Max-এ টেম্পারড গ্লাস লাগানো ছিল। অন্য তিনটি ফোনের ক্ষেত্রে একইভাবে টেম্পারড গ্লাসের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই সংখ্যাগুলোকে চার ফোনের সম্পূর্ণ সমান অবস্থায় মাপা খালি ফোনের ওজন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

পরীক্ষার হিসাবে Vivo সবচেয়ে হালকা। OPPO-এর সঙ্গে এর ওজনের পার্থক্য মাত্র ৩.৮ গ্রাম। Xiaomi তুলনামূলক ভারী এবং iPhone-এর ওজন সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। তবে হাতে ব্যবহারের অভিজ্ঞতা শুধু ওজনের ওপর নির্ভর করে না। ফোনের পুরুত্ব, প্রস্থ, ফ্রেমের নকশা এবং ওজনের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ।

যারা ভ্রমণের সময় দীর্ঘক্ষণ ফোন হাতে নিয়ে ছবি তোলেন, তাদের জন্য এই পার্থক্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। কারণ শক্তিশালী ক্যামেরা থাকলেও ফোনটি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করতে অস্বস্তি হলে সামগ্রিক অভিজ্ঞতা প্রভাবিত হতে পারে।

প্রধান ক্যামেরায় Xiaomi, OPPO, Vivo ও iPhone-এর ছবি কেমন?

চারটি ফোনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ক্যামেরা হলো প্রধান ক্যামেরা। দৈনন্দিন জীবনে রাস্তার দৃশ্য, খাবার, ভবন কিংবা মানুষের ছবি তোলার সময় অধিকাংশ ব্যবহারকারী প্রথমে এই ক্যামেরাই ব্যবহার করেন। তাই চার ফোনের তুলনায় প্রধান ক্যামেরার পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

পরীক্ষার বর্ণনা অনুযায়ী, পর্যাপ্ত আলোতে চারটি ফোনের ছবিতেই ভালো ডিটেইল পাওয়া গেছে। ৫০ মেগাপিক্সেল হোক কিংবা ২০০ মেগাপিক্সেল—আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ক্যামেরাগুলো দিনের আলোতে যথেষ্ট বিস্তারিত ছবি ধারণ করতে সক্ষম। তবে ছবির রঙ, উজ্জ্বলতা ও কনট্রাস্টে পার্থক্য দেখা গেছে।

Xiaomi 18 Pro Max: উজ্জ্বল রঙ ও আকর্ষণীয় কনট্রাস্ট

Xiaomi 18 Pro Max-এর নমুনা ছবিতে আকাশের নীল রঙ বেশ উজ্জ্বল এবং রাস্তার দুই পাশের লাল সাইনবোর্ডগুলো চোখে পড়ার মতো প্রাণবন্ত দেখা গেছে। পুরোনো ভবনের দেয়াল ও নীল আকাশের কনট্রাস্ট ছবিতে আলাদা আবহ তৈরি করেছে।

এই ধরনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রকাশ করার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। কারণ আলাদা করে এডিট না করেও ছবিতে উজ্জ্বলতা ও রঙের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

তবে Xiaomi-এর এই ইমেজ প্রসেসিংয়ের একটি সীমাবদ্ধতাও পরীক্ষায় উঠে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে আকাশের নীল এবং সাইনবোর্ডের লাল রং বাস্তবের তুলনায় বেশি স্যাচুরেটেড মনে হয়েছে। যারা চোখে দেখা দৃশ্যের কাছাকাছি স্বাভাবিক রঙের ছবি চান, তাদের কাছে এই প্রসেসিং কিছুটা অতিরিক্ত মনে হতে পারে।

OPPO Find X10 Pro Max: স্বাভাবিক রঙ ও আলো-ছায়ার ভারসাম্য

OPPO Find X10 Pro Max-এর ছবিতে তুলনামূলক স্বাভাবিক রঙের ব্যবহার দেখা গেছে। পুরোনো ভবনের দেয়ালে আলো ও ছায়ার পরিবর্তন স্পষ্ট ছিল। আকাশের মেঘের ডিটেইলও ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।

Xiaomi-এর মতো পুরো ছবিকে অতিরিক্ত উজ্জ্বল করার চেষ্টা করেনি OPPO। রাস্তার দুই পাশের সাইনবোর্ডে যথেষ্ট রঙ থাকলেও তা তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত মনে হয়েছে।

বিশেষ করে পুরোনো ভবন, দেয়ালের দাগ, ছাদের নিচের ছায়া এবং রাস্তার স্বাভাবিক পরিবেশ ধরে রাখার ক্ষেত্রে OPPO-এর প্রসেসিং প্রশংসনীয় বলে পরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে। যারা অতিরিক্ত রঙের পরিবর্তে বাস্তব দৃশ্যের কাছাকাছি ছবি পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই স্টাইল বেশি ভালো লাগতে পারে।

Vivo X500 Pro Max: বেশি উজ্জ্বলতা, তবে রঙে অতিরিক্ত প্রবণতা

Vivo X500 Pro Max-এর ছবিতে চার ফোনের মধ্যে উজ্জ্বলতা ও স্যাচুরেশন বেশি দেখা গেছে। আকাশের নীল, দোকানের লাল সাইনবোর্ড এবং ভবনের বিভিন্ন অংশের রঙ বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। ভবনের অন্ধকার অংশেও উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে লুকানো ডিটেইল দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছে ক্যামেরার ইমেজ প্রসেসিং।

প্রথম দেখায় এই ছবিগুলো বেশ আকর্ষণীয় মনে হতে পারে। তবে পরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কিছু ছবিতে রঙের স্যাচুরেশন বেশি ছিল। ভবন ও রাস্তার কিছু অংশে হালকা বেগুনি আভাও দেখা গেছে। ফলে কিছু দৃশ্যের রঙ পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়নি।

অর্থাৎ, Vivo-এর ক্যামেরা ছবিকে উজ্জ্বল ও দৃষ্টিনন্দন করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তবে যারা প্রাকৃতিক রঙ ও বাস্তব দৃশ্যের কাছাকাছি ছবি পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই প্রসেসিং সব সময় পছন্দনীয় নাও হতে পারে।

iPhone 18 Pro Max: ডিটেইল থাকলেও ছবিতে ধূসর ভাব

iPhone 18 Pro Max-এর নমুনা ছবিতে পরীক্ষক তুলনামূলক কম এক্সপোজার লক্ষ্য করেছেন। আকাশ কিছুটা ধূসর এবং রাস্তার দুই পাশের লাল সাইনবোর্ডও অন্য ফোনগুলোর তুলনায় কম প্রাণবন্ত মনে হয়েছে।

বিশেষ করে Xiaomi-এর ছবির সঙ্গে তুলনা করলে iPhone-এর ছবিতে উজ্জ্বলতার ঘাটতি চোখে পড়ে। পুরো ছবিতে যেন হালকা ধূসর আবরণ রয়েছে—এমন অনুভূতি তৈরি হয়েছে বলে পরীক্ষার বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভবনের দেয়াল, বৈদ্যুতিক তার ও দোকানের সাইনবোর্ডের মতো কিছু অংশে ডিটেইল ভালোভাবে ধরে রাখতে পেরেছে ফোনটি। অতিরিক্ত শার্পনিংয়ের প্রবণতাও স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে ছবি তোলার পর সামগ্রিক দৃশ্যের আকর্ষণও গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার এই সেটে iPhone-এর সরাসরি তোলা ছবিগুলো অন্য তিন ফোনের তুলনায় কম আকর্ষণীয় মনে হয়েছে।

ছবির রঙ ও এক্সপোজারই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে?

চার ফোনের এই তুলনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রতিটি নির্মাতার ক্যামেরা প্রসেসিংয়ের ধরন আলাদা। Xiaomi বেশি প্রাণবন্ত রঙ ও কনট্রাস্টের দিকে ঝুঁকেছে। OPPO তুলনামূলক স্বাভাবিক আলো-ছায়া ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। Vivo ছবিকে বেশি উজ্জ্বল ও রঙিন করেছে। অন্যদিকে পরীক্ষার নির্দিষ্ট নমুনায় iPhone-এর ছবি তুলনামূলক কম উজ্জ্বল মনে হয়েছে।

তবে পরীক্ষায় চারটি ফোনের ছবি একই সময়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতিটি ছবির সময় আলো ও পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন থাকতে পারে। এ কারণে এই নমুনাগুলো দিয়ে নির্মাতাদের রঙের ধরন ও এক্সপোজারের প্রবণতা তুলনা করা সম্ভব হলেও ডাইনামিক রেঞ্জ বা রেজল্যুশনের চূড়ান্ত র‌্যাঙ্কিং করা ঠিক হবে না।

খাবারের ছবি ও ক্লোজ-আপে কোন ফোন এগিয়ে?

প্রধান ক্যামেরার পর পরীক্ষায় লাল বিনের ডেজার্টের মতো কাছ থেকে তোলা খাবারের ছবিও তুলনা করা হয়েছে। এই ধরনের ছবিতে খাবারের প্রকৃত রঙ, পৃষ্ঠের গঠন, আলো প্রতিফলন এবং ছোট ছোট ডিটেইল গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষার বর্ণনায় বলা হয়েছে, চারটি ফোনের ছবিতে খাবারের রঙ, ডেজার্টের ওপর থাকা দানার উজ্জ্বলতা এবং সামগ্রিক ছবির ব্রাইটনেসে পার্থক্য স্পষ্ট ছিল। তবে সরবরাহ করা প্রতিবেদনের অংশে এই ক্লোজ-আপ পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল দেওয়া হয়নি। তাই কোন ফোন খাবারের ছবি সবচেয়ে ভালো তুলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য কোন ফোনটি বেশি উপযোগী?

বাংলাদেশের বাজারে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরার পাশাপাশি দাম, অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি, সার্ভিস সুবিধা এবং সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

যারা উজ্জ্বল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী ছবি পছন্দ করেন, তাদের কাছে Xiaomi 18 Pro Max আকর্ষণীয় হতে পারে। স্বাভাবিক রঙ ও আলো-ছায়ার ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিলে OPPO Find X10 Pro Max বিবেচনায় রাখা যায়। দূরের বিষয়বস্তুর ছবি ও টেলিফটো ফটোগ্রাফি গুরুত্বপূর্ণ হলে Vivo X500 Pro Max-এর ২০০ মেগাপিক্সেলের Zeiss APO ক্যামেরা বিশেষ আগ্রহ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে Apple-এর পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ও ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণের নতুন সুবিধা iPhone ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে এই চারটি মডেলের বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক মূল্য, বাজারে প্রাপ্যতা ও ওয়ারেন্টি সম্পর্কে এখানে নিশ্চিত তথ্য নেই। তাই শুধু ক্যামেরার তুলনা দেখে কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্থানীয় বাজারের দাম ও সেবা সুবিধাও যাচাই করা উচিত।

শেষ কথা: ক্যামেরায় চার ফোনের চার ধরনের শক্তি

২০২৬ সালের এই চার ফ্ল্যাগশিপের ক্যামেরা প্রতিযোগিতায় Xiaomi, OPPO ও Vivo নিজ নিজ জায়গায় উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছে। Xiaomi-এর Leica-ভিত্তিক ইমেজিং স্টাইল, OPPO-এর তিনটি ২০০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা এবং Vivo-এর বড় সেন্সরযুক্ত টেলিফটো ক্যামেরা আলাদা গুরুত্ব বহন করে। Apple-ও পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার যুক্ত করে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারে নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

প্রধান ক্যামেরার নির্দিষ্ট নমুনায় OPPO-এর রঙ তুলনামূলক স্বাভাবিক, Xiaomi-এর ছবি বেশি আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত এবং Vivo-এর ছবি বেশি উজ্জ্বল হলেও কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড দেখা গেছে। অন্যদিকে iPhone 18 Pro Max-এর ছবিতে ডিটেইল থাকলেও পরীক্ষার কয়েকটি নমুনায় উজ্জ্বলতার ঘাটতি চোখে পড়েছে।

তবে টেলিফটো, রাতের ছবি, পোর্ট্রেট, ভিডিও এবং AI ইমেজিংয়ের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ছাড়া কোনো একটি ফোনকে সামগ্রিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে না। শেষ পর্যন্ত সেরা ক্যামেরা ফোন নির্ভর করবে ব্যবহারকারীর ছবি তোলার ধরন ও ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত