শিল্পের সঙ্গে যৌথ গবেষণা করলেই মিলবে অর্থায়ন, জানাল ইউজিসি
শিক্ষা · 2026-10-31T13:13:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা প্রকল্প নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রয়োজন বিবেচনায় এ ধরনের গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অর্থায়নের সমস্যা হবে না।
তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। তিনি বলেছেন, দেশের প্রয়োজন বিবেচনায় এ খাতের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা উদ্যোগ নিলে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউএফটি) সপ্তম টেক্সটাইল রিসার্চ কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। এ খাত বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। তাই শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, শিল্পসংশ্লিষ্ট গবেষণায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে দেশব্যাপী একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা প্রকল্পে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বে যৌথ গবেষণাকে উৎসাহিত করবে ইউজিসি।
গবেষণার ফলাফল যেন সরাসরি শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ নয়, গবেষণার মাধ্যমে পেটেন্ট, বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য প্রোটোটাইপ এবং পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন দেখতে চায় ইউজিসি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশেষায়িত গবেষণা তহবিল বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন পণ্যের দামের পাশাপাশি কারখানার পরিবেশগত মান, পুনর্ব্যবহারের সুযোগ এবং উৎপাদনে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বিবেচনা করেন। এ কারণে উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল, প্রযুক্তিনির্ভর পোশাক এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদনব্যবস্থার দিকে এগোতে হবে। শুধু কম দামের পোশাক রপ্তানি করে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা ও শিল্পভিত্তিক জ্ঞান প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়লে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। এতে ডিজিটাল ফ্যাশন ডিজাইনসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বিইউএফটি ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ইন সায়েন্স, আর্টস অ্যান্ড টেকনোলজি (ক্রিস্যাট) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিইউএফটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মেসবাহ উদ্দিন আলী, উপাচার্য (মনোনীত) অধ্যাপক ড. আয়ুব নবী খান এবং ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিম হোসেন।
সম্মেলনে চীনের চেংদু কিংগং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিহং পাং এবং পাকিস্তানের ন্যাশনাল টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হাফসা জামশাদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।