শ্রীমঙ্গলের সময়

প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র আজ( প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা),ফল জানবেন যেভাবে

অর্থনীতি · 2026-11-01T08:08:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র ১ নভেম্বর ২০২৬, রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার এবং পঞ্চম পুরস্কার ১০ হাজার টাকা। ফল প্রকাশের পর আইআরডির সরকারি পিবিআরআইএস ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নম্বর যাচাই করা যাবে। পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে।

ভাগ্য বদলে যেতে পারে একটি ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডেই! বাংলাদেশ প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র আজ রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ ড্রকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রাইজবন্ডধারীদের মধ্যে। প্রথম পুরস্কার হিসেবে একজন বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার এবং পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ড্রয়ের ফল প্রকাশের পর ঘরে বসেই অনলাইনে নিজের প্রাইজবন্ডের নম্বর মিলিয়ে নিতে পারবেন গ্রাহকরা।

বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে সরকার প্রাইজবন্ড চালু করে। বর্তমানে ১০০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড প্রচলিত রয়েছে। এটি এমন এক ধরনের সঞ্চয়মাধ্যম, যেখানে নির্দিষ্ট সময় পরপর ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বন্ডের নম্বর নির্বাচিত হলে নির্ধারিত পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এর একটি সুবিধা হলো, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রাইজবন্ড যেকোনো সময় কেনা ও নগদায়ন করা যায়।

১২৫তম ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬ লাখ টাকা পাবেন একজন বিজয়ী। দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা পাবেন একজন। তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ টাকা করে পাবেন দুজন। চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন দুজন এবং পঞ্চম পুরস্কার ১০ হাজার টাকা করে পাবেন ৪০ জন। অর্থাৎ প্রতিটি ড্রয়ে মোট ৪৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে একই বিজয়ী নম্বরের বিপরীতে বিভিন্ন সিরিজের বন্ড থাকলে সংশ্লিষ্ট সব সিরিজের একই নম্বরের বন্ড পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়।

প্রাইজবন্ডের ড্র সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত সূচি অনুযায়ী জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই ও অক্টোবর মাসের শেষ দিনে ড্র হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত তারিখে সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র আয়োজন করা হয়। এবার ৩১ অক্টোবর শনিবার হওয়ায় ১২৫তম ড্র ১ নভেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

তবে সব প্রাইজবন্ড এই ড্রয়ের জন্য যোগ্য নয়। নিয়ম অনুযায়ী, ড্রয়ের তারিখের আগের ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রি হওয়া বন্ড ওই ড্রয়ের আওতায় আসে না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ করা বন্ডই ড্রয়ের জন্য বিবেচিত হবে। এ ক্ষেত্রে বন্ড কেনার দিন গণনায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ড্রয়ের দিন গণনায় ধরা হয় না। তাই নতুন কেনা প্রাইজবন্ড থাকলে সেটি কোন ড্রয়ের জন্য যোগ্য হবে, তা কেনার তারিখ অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

ড্রয়ের ফল প্রকাশের পর প্রাইজবন্ডের নম্বর যাচাই করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সরকারি ওয়েবসাইটের প্রাইজবন্ড রেজাল্ট ইনকোয়ারি সফটওয়্যার বা পিবিআরআইএস ব্যবহার করা। এ জন্য https://prizebond.ird.gov.bd/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে বন্ডের নম্বর লিখে অনুসন্ধান করা যায়। পাশাপাশি একাধিক নম্বর একসঙ্গে যাচাই করার জন্য নম্বর আপলোডের সুবিধাও রয়েছে। ফলে যাঁদের কাছে অনেকগুলো প্রাইজবন্ড রয়েছে, তাঁদের প্রতিটি নম্বর আলাদাভাবে খুঁজতে হবে না।

মোবাইল ফোন থেকেও প্রাইজবন্ডের ফলাফল যাচাই করা সম্ভব। আইআরডির পিবিআরআইএস-সংক্রান্ত অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করে নম্বর মিলিয়ে দেখা যায়। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও প্রাইজবন্ডের বিজয়ী নম্বর অনুসন্ধানের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে একটি নম্বর দিয়ে অনুসন্ধানের পাশাপাশি একাধিক নম্বর কমা দিয়ে লিখে অথবা ধারাবাহিক নম্বরের ক্ষেত্রে প্রথম ও শেষ নম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট চিহ্ন ব্যবহার করে একসঙ্গে অনুসন্ধান করা যায়। তবে ফল প্রকাশের পর সরকারি ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে নিজের বন্ডের নম্বর ও সিরিজ মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সময় শুধু নম্বরের শেষ কয়েকটি সংখ্যা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বন্ডের সম্পূর্ণ নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট সিরিজের তথ্য ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। একই নম্বরের বন্ড বিভিন্ন সিরিজে থাকতে পারে বলে বিজয়ী নম্বরের সঙ্গে নিজের বন্ডের সিরিজও মিলিয়ে দেখা জরুরি। অনলাইনে কোনো ফলাফল বা তালিকা দেখলে সেটি সরকারি ফলাফলের সঙ্গে যাচাই না করে কাউকে বন্ডের তথ্য বা ব্যক্তিগত কাগজপত্র দেওয়া উচিত নয়।

প্রাইজবন্ডে পুরস্কার পেলে অর্থ দাবি করার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত মূল প্রাইজবন্ড, পুরস্কার দাবি করার আবেদনপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এবং প্রয়োজনীয় ছবি জমা দিতে হয়। বন্ডের পেছনে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, ডাকঘর ও জাতীয় সঞ্চয় ব্যুরোর মাধ্যমে প্রাইজবন্ড কেনা ও নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। পুরস্কারের অর্থ দাবি করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, জমা দেওয়ার স্থান ও প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই করে নেওয়া উচিত।

পুরস্কারের অর্থ থেকে উৎসে করও কেটে রাখা হয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য। ফলে ঘোষিত পুরস্কারের পুরো অর্থ হাতে পাওয়া যাবে না। উদাহরণ হিসেবে, প্রথম পুরস্কারের ৬ লাখ টাকা থেকে ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর হিসেবে কাটা হলে বিজয়ীর হাতে থাকবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একইভাবে অন্যান্য পুরস্কারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করা হবে।

প্রাইজবন্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ড্রয়ের ফল প্রকাশের পরই নিজের নম্বর যাচাই করা। অনেক সময় বিজয়ী নম্বরের তালিকা প্রকাশ হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তাই ফল প্রকাশের আগেই কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইটে পাওয়া তালিকাকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি পিবিআরআইএস বা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ফলাফল অনুসরণ করাই নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্রকে ঘিরে আজ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বন্ডধারীরা। প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকাসহ মোট ৪৬টি পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ড্রয়ের ফল প্রকাশ হলে আইআরডির সরকারি ওয়েবসাইট, পিবিআরআইএস অ্যাপ অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে নিজের বন্ডের নম্বর মিলিয়ে নিতে পারবেন। আপনার কাছে প্রাইজবন্ড থাকলে নম্বর ও সিরিজ প্রস্তুত রাখুন এবং ফল প্রকাশের পর সরকারি মাধ্যমে যাচাই করুন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত