শ্রীমঙ্গলের সময়

অটোরিকশার গতি ও নিরাপত্তায় মানতে হবে যেসব শর্ত

জাতীয় · 2026-10-30T14:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

নতুন ই-রিকশা বিধিমালায় বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ, স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন এবং নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছরের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালের বিধান রাখা হয়েছে। স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার এবং হর্নের শব্দসীমা ৪০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। ত্রুটিযুক্ত ও নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না।

ই-রিকশা চলাচলে গতি নিয়ন্ত্রণ, শব্দদূষণ কমানো এবং যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক শর্ত নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি রাখতে হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। এ ছাড়া ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দের হর্ন ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ই-রিকশাকে পূরণ করতে হবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য।

গত ২৯ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগ জারি করেছে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’। এতে ই-রিকশার প্রযুক্তিগত মান, গতিসীমা, হর্ন, সড়ক ব্যবহার এবং চালকের আচরণ সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিধিমালার ৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি ই-রিকশাকে বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ শুধু যানবাহন তৈরি বা রাস্তায় নামালেই হবে না, সেটির কাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থাও নির্ধারিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কালও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনের তারিখ থেকে একটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। এই সময়সীমা শেষ হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার অথবা ওডোমিটার স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে।

গতিসীমার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু এলাকার জন্য আলাদা নির্দেশনা রয়েছে। বিধিমালার ৮ নম্বর বিধি অনুযায়ী, স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার রাখা বাধ্যতামূলক। এসব এলাকায় শিশু, রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চালকদের সতর্কভাবে যানবাহন চালাতে হবে।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে নির্দিষ্ট সীমা। ই-রিকশায় ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতাসম্পন্ন হর্ন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে এমন হর্ন ব্যবহার বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিধিমালার ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ই-রিকশা জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং প্রধান বাস চলাচলের সড়কে চলতে পারবে না। বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডরেও ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ যেসব সড়কে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব পথেও ই-রিকশা চালানো যাবে না।

ফুটপাত দিয়ে ই-রিকশা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চালকদের সড়কের বাম পাশ অথবা নির্ধারিত লেন অনুসরণ করে চলতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং এবং বিপজ্জনকভাবে যানবাহন চালানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।

যান্ত্রিক বা নিরাপত্তাগত ত্রুটিযুক্ত ই-রিকশা সড়কে চালানো যাবে না। কোনো যানবাহনে ত্রুটি শনাক্ত হলে সেটির দৃশ্যমান স্থানে ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলাচল অনুপযোগী’ লেখা সাইনবোর্ড প্রদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিবন্ধনবিহীন ই-রিকশা চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিদ্যমান ই-রিকশার প্রযুক্তিগত মান উন্নয়নের বিষয়টিও বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুয়েটের নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংশোধন সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রত্যয়নসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন বিধিমালার ফলে ই-রিকশার মালিক ও চালকদের জন্য শুধু নিবন্ধন নিশ্চিত করাই যথেষ্ট হবে না; যানবাহনের প্রযুক্তিগত মান, নিরাপত্তাব্যবস্থা, গতিসীমা, হর্ন এবং সড়ক ব্যবহারের নিয়মও মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে স্কুল, হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ এবং ত্রুটিযুক্ত যানবাহন সড়কে না নামানোর বিষয়টি সড়ক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত