শ্রীমঙ্গলের সময়

সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা, সংকটে পর্যটন ও জনজীবন

সারাদেশ · 2026-10-30T14:00:49.000000Z · জেলা প্রতিনিধি

আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেকে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবরোধ প্রত্যাহার হলেও পর্যটন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।

রাঙামাটির সাজেকে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পর্যটন খাত, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

পার্বত্য এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আন্দোলনকারী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য, সাজেকের বর্তমান সংকট শুধু অবরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধ, নির্দিষ্ট এলাকা নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতা এবং চাঁদা আদায়ের অর্থনৈতিক স্বার্থও এর পেছনে ভূমিকা রাখছে।

পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে ধারাবাহিক অবরোধের কারণে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। অবরোধ প্রত্যাহারের পরও পর্যটকদের মধ্যে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ কাটেনি। ফলে পর্যটন ব্যবসায় আগের গতি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির দাবি, গত ৩১ আগস্ট থেকে সাজেকের মাচালং এলাকায় জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান করছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই অবস্থানের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল, কৃষিকাজ ও চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, অভিযুক্ত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের পরও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক না হলে হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয়েও প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি চলাচল ও কৃষিকাজে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে স্থানীয় জনজীবনেও সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, অবরোধ প্রত্যাহার হলেও সাজেকে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে আসার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। স্থানীয়দের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং পর্যটন কার্যক্রম সচল রাখতে পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত