তরুণ বয়সেও হতে পারে ক্যানসার, অবহেলা করবেন না যে ৯ লক্ষণ
লাইফস্টাইল · 2026-10-30T14:37:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
তরুণ বয়সেও ক্যানসার হতে পারে। অকারণে ওজন কমা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, শরীরে পিণ্ড, দীর্ঘদিনের কাশি, অস্বাভাবিক রক্তপাতসহ নয়টি শারীরিক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। এসব লক্ষণ মানেই ক্যানসার নয়, তবে অবহেলা করাও ঠিক নয়।
ক্যানসার শুধু বয়স্কদের রোগ—এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তরুণ বয়সে শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলেও অনেকে সেটিকে সাধারণ অসুস্থতা, মানসিক চাপ কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান। অথচ বয়স কম হলেও ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অস্টিওপরোসিসের মতো কিছু রোগের ক্ষেত্রে যেমন প্রাথমিক লক্ষণ সহজে বোঝা যায় না, ক্যানসারের ক্ষেত্রেও অনেক সময় শুরুতে স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তরুণদের মধ্যে ক্যানসার শনাক্ত হতে দেরির একটি কারণ হলো, তাঁরা শুরুতেই এ রোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেন না। দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা শারীরিক অস্বস্তিকে অনেকেই ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ বা ব্যস্ত জীবনযাপনের ফল মনে করেন।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে অকারণে ওজন কমে যাওয়া। খাদ্যাভ্যাস বা শরীরচর্চায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এনেও ওজন কমতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের পরও দীর্ঘদিন দুর্বলতা বা অবসাদ অনুভব করা সতর্কসংকেত হতে পারে। তৃতীয়ত, স্তন, ঘাড় কিংবা শরীরের অন্য কোথাও অস্বাভাবিক পিণ্ড বা ফোলা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
চতুর্থ লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা স্বর বসে যাওয়া। বিশেষ করে কাশি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে কিংবা স্বরের পরিবর্তন না কমলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি। পঞ্চমত, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই রক্তপাত হওয়া অথবা শরীরে সহজে কালশিটে পড়াও অবহেলা করা উচিত নয়।
ষষ্ঠত, দীর্ঘদিন পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক অস্বস্তি থাকলে সতর্ক হতে হবে। সপ্তমত, মলত্যাগ বা প্রস্রাবের অভ্যাসে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অষ্টমত, মুখে ঘা বা ত্বকের ক্ষত দীর্ঘদিনেও না শুকালে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। নবমত, শরীরের লসিকাগ্রন্থি দীর্ঘদিন ফুলে থাকলেও এর কারণ পরীক্ষা করা দরকার।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। সাধারণ সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিন্তু কোনো লক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা ক্রমেই বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স কম বলে ক্যানসারের সম্ভাবনা নেই—এমন ধারণা ঠিক নয়।
ক্যানসার নিয়ে আরও একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলেই এ রোগের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করলেও শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। বয়স ও বংশগত বৈশিষ্ট্যসহ কিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়ও এ রোগের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য পরিহার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, সুষম খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত সূর্যালোক থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখাও প্রয়োজন। পাশাপাশি হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) ও হেপাটাইটিস বি-এর টিকা সংশ্লিষ্ট সংক্রমণ এবং সেসব সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ক্যানসারের চিকিৎসায়ও গত কয়েক বছরে অগ্রগতি হয়েছে। রোগের ধরন, পর্যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে টিউমারের আণবিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর নিয়মিত ফলোআপ, পুষ্টিকর খাবার, শারীরিক সক্রিয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।