শ্রীমঙ্গলের সময়

সৌন্দর্যবর্ধনের নামে তিতুমীর কলেজে গাছ কাটা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা · 2026-10-30T13:48:24.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা ও ডালপালা ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা রং করার সুবিধা, ড্রেন, আলো ও বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তার কারণ তুলে ধরেছেন।

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফুল ও ফলের গাছ কাটা এবং গাছের ডালপালা অপরিকল্পিতভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পরিবর্তে গাছ কেটে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরেজমিনে ক্যাম্পাসের শহীদ বরকত মিলনায়তনের সামনে, শহীদ মিনারের পাশে, মুক্তমঞ্চের আশপাশে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটা ও ডালপালা ছাঁটাইয়ের চিত্র দেখা যায়। সেখানে ছোট ছোট ফলের গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কোনো কোনো গাছ গোড়া থেকেও কেটে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অডিটোরিয়ামের বাইরের অংশে রং করার সুবিধার্থে আশপাশের গাছের ডালপালা কাটা হয়েছে। এ ছাড়া গাছের শিকড়ের কারণে পানির ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বৈদ্যুতিক লাইনের আশপাশে নিরাপত্তাঝুঁকি এড়ানোর যুক্তিও তুলে ধরেছেন তাঁরা।

কর্মচারীরা আরও জানান, বড় গাছের ঘন ছায়ার নিচে নতুন গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে নতুন গাছ লাগানোর উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য কিছু গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা হচ্ছে।

তবে এ ধরনের কার্যক্রমের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস তিতুমীরের প্রতিনিধিরা। সংগঠনটির প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ বিন কাজিম বলেন, সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলা এবং অধিকাংশ গাছের ডালপালা অপরিকল্পিতভাবে ছেঁটে ফেলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা। যেসব গাছ এত দিন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের প্রশান্তির ছায়া দিয়েছে, সেগুলোর এমন ক্ষতিসাধন অত্যন্ত দুঃখজনক।

ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারকির জন্য কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ কিংবা প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর ওপর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন ক্যাম্পাস তিতুমীরের মতো সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি।

ক্যাম্পাসের গাছ কাটার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরাও। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, তিতুমীর কলেজের গাছগুলো তাঁদের জন্য প্রশান্তির জায়গা। ক্যাম্পাসে এসে তাঁরা গাছের নিচে বসতেন। ফুলগাছগুলো যেভাবে কেটে ফেলা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের মতে, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা যেন পরিবেশের ক্ষতি করে না হয়। গাছপালা রক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত