পাঞ্জেরী গাইড থেকে প্রশ্ন, গাইড প্রকাশকদের সতর্ক করলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা · 2026-10-30T12:59:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বাউবির পরীক্ষায় পাঞ্জেরী গাইড থেকে প্রশ্ন ও উত্তর আসার অভিযোগ তুলে গাইডবই প্রকাশকদের সতর্ক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে গাইডবইয়ে প্রশ্ন পাওয়া যায় এমন শিক্ষকদের আর প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরীক্ষায় পাঠ্যবইয়ের পরিবর্তে পাঞ্জেরী গাইড থেকে প্রশ্ন ও উত্তর আসার অভিযোগ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক ও গাইডবই প্রকাশকদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, এবার গাইডবই প্রকাশকদের সাবধানে থাকতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউজিসির প্রতিবেদনে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে ৩ হাজার ৮৬২ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য বই সরবরাহ করলেও সেসব বই শিক্ষার্থীরা পড়ছেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাউবির পরীক্ষায় পাঠ্যবই থেকে প্রশ্ন না এসে পাঞ্জেরী গাইড থেকে প্রশ্ন ও উত্তর আসে। এ কাজে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কিছু ব্যক্তি গাইড প্রকাশকদের প্রশ্ন সরবরাহ করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গাইডবই থেকে প্রশ্ন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রকাশকদের ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, কোন কোন শিক্ষকের তৈরি প্রশ্ন গাইডবইয়ে পাওয়া যায়, তা নিয়ে গবেষণা করেছেন। এসব শিক্ষকের আর প্রশ্ন তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
গাইডবই প্রকাশকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এবার তড়িঘড়ি করে লাখ লাখ কপি গাইড ছাপানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, এবার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ধরা পড়বেন। এ বিষয়ে তিনি প্রকাশকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বাউবির পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাব্যবস্থায় নকলের চর্চা টিকে রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে এটিকে তিনি শেষ সতর্কবার্তা বলেও উল্লেখ করেন।
এর আগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নোট ও গাইডবইয়ের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে পাঞ্জেরী গাইড প্রকাশক বা নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল কিংবা আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য এখনো এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, বাউবির পরীক্ষায় পাঠ্যবইভিত্তিক প্রশ্ন নিশ্চিত করা, গাইডবইনির্ভরতা কমানো এবং প্রশ্ন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধ করা। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন ও মূল্যায়নব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।