শ্রীমঙ্গলে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত
সিলেটের খবর · 2026-11-07T07:31:57.000000Z · প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।এর অংশ হিসেবে শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।বক্তাদের বক্তব্যআলোচনা সভায় বক্তব্য দেন— শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূরুল আলম সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইয়াকুব আলী, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. শামিম আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিল্লাদ হোসেন মিরাশদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান এবং শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবু জাফর সালাউদ্দিন।বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা।কিন্তু ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহী ও জনতার সম্মিলিত বিপ্লবের মাধ্যমে বন্দীদশা থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা হয়। তিনি সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত করেন। এ কারণেই ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হয়ে আছে।বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট সরকার ৭ নভেম্বরের চেতনাকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছিল এবং তরুণ প্রজন্মের কাছ থেকে এর প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতি সেই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।তরুণ প্রজন্মের মাঝে ৭ নভেম্বরের প্রকৃত ইতিহাস ও দেশপ্রেমের চেতনা ছড়িয়ে দিতে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো দাবি জানান বক্তারা।