শ্রীমঙ্গলের সময়

কমলগঞ্জে ধর্ষণ মামলা: স্বামী গ্রেপ্তার, স্ত্রীর দাবি ‘পরিকল্পিত ফাঁদ’

সিলেটের খবর · 2026-11-05T10:49:25.000000Z · প্রতিবেদক, কমলগঞ্জ


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের হেরেঙ্গাবাজার এলাকার একটি টমেটো বাগান থেকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় শিপু মিয়া (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে একে ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ দাবি করে শিপু মিয়াকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন অভিযুক্ত শিপু মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম। এ সময় শিপু মিয়ার পিতা কুতুব আলী উপস্থিত ছিলেন।​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আম্বিয়া বেগম জানান, গত সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার স্বামী শিপু মিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, ওই দিন রাতে তার স্বামী হেরেঙ্গা বাজারের সোহেল মিয়ার টমেটোর দোকানে কাজ শেষ করে সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন। রাতের খাবার শেষে স্বামীকে ঘরে রেখে তিনি নিজ টমেটো বাগান দেখতে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুনরায় বাগানে গিয়ে মোবাইল ফোনের আলো দেখতে পান এবং সেখানে কাউকে শুয়ে থাকতে দেখেন।​পরবর্তীতে বিষয়টি স্বামী শিপু মিয়া ও ভাসুর শিমুল মিয়াকে জানালে তারা বাগানে গিয়ে পাশের বাড়ির মান্নান মিয়ার মেঝ মেয়েকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির আলী ও সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগমকে বিষয়টি জানানো হয়। আম্বিয়া বেগমের দাবি, ইউপি সদস্য মনির আলী প্রথমে আসতে অপারগতা প্রকাশ করলেও সাবেক ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে তারা পুনরায় বাগানে যান। বাগানের দক্ষিণ পাশের একটি নালা থেকে ওই তরুণীকে অর্ধউলঙ্গ ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শিপুর বাড়ির উঠানে এনে প্রাথমিক শুশ্রূষা করা হয়। এর আগেই শশুরের দোকানে যাওয়ার পথে পুলিশ শিপু মিয়াকে আটক করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।​পরিবারের অভিযোগ, ওই তরুণীর পরিবার এর আগেও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির আলীর সাথে তাদের পূর্ববিরোধের জের ধরেই এই ফাঁদ পাতা হয়েছে। ইতিপূর্বে শিপুর বড়াকেও একটি মিথ্যা চুরির মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তার স্ত্রী।​ঘটনার বিষয়ে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগম জানান, রাতে ফোনে খবর পেয়ে তিনি শিপু মিয়ার টমেটো বাগানে গিয়ে তরুণীকে অচেতন ও অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শিপুর বাড়িতে আনা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই শিপুকে রাস্তা থেকে আটক করা হয়েছিল।​এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মনির আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত পরিকল্পনা ও পূর্ববিরোধের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ ফোন করে সহযোগিতা চাওয়ায় আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং পুলিশকে সাথে নিয়েছি। ঘটনাস্থলে ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে।’​এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং যার টমেটো বাগান, সেই শিপু মিয়াকে আটক করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের বক্তব্য ও বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আটককৃত শিপু মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত