কানাইঘাট থানায় এক মাসে সাফল্যের ধারা: ওসি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদক, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে বড় সাফল্য
সিলেটের খবর · 2026-11-05T11:08:56.000000Z · প্রতিবেদক, কানাইঘাট
সিলেটের সীমান্তবর্তী জনপদ কানাইঘাটে অপরাধ দমন, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে থানা পুলিশ। গত এক মাসে (৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর) কানাইঘাট থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে মাদক উদ্ধার, অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি পাকড়াও, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং অপহৃত কিশোরী উদ্ধারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এসব সফল ও সাহসী অভিযানে নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রকাশিত সংবাদ ও থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে কানাইঘাট থানায় যেসব উল্লেখযোগ্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও ইয়াবা উদ্ধার
মাদক ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। গত ১৭ অক্টোবর রাতে উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মমতাজগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ তোফায়েল আহমদ স্বপন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ওসি আমিনুল ইসলামের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও দুজন পালিয়ে গেলেও মাদক কারবারিদের দমনে এটি একটি বড় আঘাত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
২. সালফার বোঝাই পিকআপ জব্দ ও গ্রেপ্তার
গত ১১ অক্টোবর গভীর রাতে (রাত ৩টার দিকে) বড়চতুল ইউনিয়নের চতুল বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ৯৬০ কেজি সালফার (গন্ধক) টুকরাভর্তি একটি পিকআপ জব্দ করা হয় এবং জাকির আহমদ (৩১) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দকৃত সালফারের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
৩. চোরাচালান ও ভারতীয় পণ্য জব্দ
সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান রোধে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবে ২৪ অক্টোবর রাতে কানাইঘাট পূর্ব বাজারের ডাকবাংলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভারতীয় ৩০৮ পিস ব্যবহারিক তেল ও ৭২ পিস সাবানসহ সুফিয়ান আহমদ (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ হাজার ৬৪০ টাকা। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
৪. চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার
গত ২০ অক্টোবর উপজেলার লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সামতলা এলাকায় সিএনজিচালক শাহাব উদ্দিনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ এবং জড়িতদের গ্রেফতারে মাঠে নামে। ঘটনার পরদিন ২১ অক্টোবর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় একই পরিবারের পাঁচজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।
৫. সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমনেও তৎপর রয়েছে কানাইঘাট থানা পুলিশ। গত ১৫ অক্টোবর গভীর রাতে উপজেলার দনা বাঙ্গালীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পাঁচ নম্বর আসামি রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি আমিনুল ইসলামের সরাসরি নেতৃত্বে এবং স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় এ অভিযান সফল হয়। এর আগে একই মামলার আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
৬. অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার ও অপহরণকারী গ্রেপ্তার
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের আরেকটি বড় মানবিক ও পেশাদার সাফল্য হলো অপহৃত কিশোরী উদ্ধার। গত ২ নভেম্বর গভীর রাতে উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের মাছুগ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় পারভেজ আহমদ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওসি আমিনুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই দুর্গা কুমার দেব সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করেন। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়।৭. ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গত ৫ অক্টোবর রাতে পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যার মধ্যে একজন দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং অন্যজন আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
জনমনে স্বস্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নের প্রত্যাশা
কানাইঘাট একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় এখানে মাদক চোরাচালান, সীমান্ত অপরাধ এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওসি মো. আমিনুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে থানা পুলিশের গতিশীল কার্যক্রম, নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন এবং অপরাধের সংবাদ পাওয়া মাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে।সচেতন মহলের মতে, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাইপণ্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই ধরনের জনবান্ধব ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা কানাইঘাটবাসীর।