পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের খাবার
স্বাস্থ্য · 2026-11-01T11:02:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট ও সন্দেশ। অন্যদিকে, কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ফলের জেলি, জুস ও আইস ললি। রাজধানীর আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় তৈরি এসব শিশুখাদ্য চকবাজারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
শিশুদের জন্য তৈরি বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা হচ্ছে পচা মিষ্টির সিরা, নষ্ট দই ও ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। রূপগঞ্জের একটি কারখানায় ফল ছাড়াই তৈরি হচ্ছে আম, লিচু ও আনারসের জেলি, জুস ও আইস ললি। অন্যদিকে, সাভারের একটি কারখানায় পচা মিষ্টির সিরা ও নষ্ট দই দিয়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট ও সন্দেশ।
সম্প্রতি এসব কারখানার চিত্র উঠে এসেছে সময় সংবাদের অনুসন্ধানে। রূপগঞ্জের কারখানাটিতে আম, লিচু, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের জেলি, জুস ও আইস ললি তৈরি হলেও সেখানে কোনো ফলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং এসব খাবার তৈরিতে রাসায়নিক উপাদান ও কৃত্রিম রং ব্যবহারের চিত্র দেখা গেছে।
কারখানার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি জানান, আসল ফলের পরিবর্তে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে এসব শিশুখাদ্য তৈরি করা হয়।
কারখানার আরেকটি কক্ষে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছে পচা পণ্য ও ময়লা-আবর্জনা। সেখান থেকেই জেলি সংগ্রহ করছেন কয়েকজন কর্মী। পরে এসব জেলি আবার প্যাকেটজাত করে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
সাভারের আরেকটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে শিশুদের চকলেট ও সন্দেশ। সেখানে অসংখ্য ড্রামে জমিয়ে রাখা হয়েছে পাঁচ থেকে ছয় দিন আগের পচা মিষ্টির সিরা। সেই সিরা দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের জন্য বিভিন্ন খাবার।
প্যাকেটের গায়ে দুধ, চিনি ও অন্যান্য উপাদানের কথা উল্লেখ থাকলেও ড্রামগুলোতে পাওয়া গেছে মিষ্টির সিরা ও পচা দই। এসব উপাদানের মধ্যে মরা মাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেগুলো গরম করে তৈরি করা হচ্ছে চকলেট ও সন্দেশ। কারখানার পরিবেশও ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর।
মিষ্টির সিরা ব্যবহারের বিষয়ে কারখানার এক কর্মচারী জানান, মিষ্টির দোকান থেকে ফেলে দেওয়া সিরা সংগ্রহ করা হয়। পরে আটার সঙ্গে মিশিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। এতে মিষ্টির স্বাদ ও ফ্লেভার পাওয়া যায়।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, শুধু রূপগঞ্জ বা সাভার নয়, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানায় তৈরি হচ্ছে এমন শিশুখাদ্য। এসব কারখানায় তৈরি পণ্যের বড় একটি অংশের গন্তব্য পুরান ঢাকার চকবাজার। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এসব খাবার।
এ বিষয়ে মুদি দোকানিদের একজন জানান, তিনি এসব পণ্য বিক্রি বন্ধ করলেও অন্য দোকানে তা বিক্রি হবে। তাঁর ভাষ্য, একজন দোকানি বিক্রি না করলে অন্য কেউ সেই পণ্য বিক্রি করবেন। এমনকি তিনি নিজেও এসব খাবার নিজের সন্তানকে খাওয়ান না বলে জানান।
শিশুখাদ্যের এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সময় সংবাদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, ভেজালবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারপরও এসব অনিয়ম কমছে না। এর মূল কারণ সংশ্লিষ্টদের অসততা।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের এককভাবে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ ধরনের অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।