নানা আয়োজনে গোবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
সারাদেশ · 2026-11-07T11:07:17.000000Z · মোঃ সাইফুল ইসলাম
বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনাসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. কে এম বাবর বলেন, “৭ই নভেম্বর কেবল একটি বিশেষ দিন নয়; এটি আমাদের জাতীয় আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশক। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন।”তিনি আরও বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরন করেই আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, যার মূল নীতি হলো—'সবাই ও সবকিছুর আগে দেশের স্বার্থ'। বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে এবং দেশের উন্নয়নে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।”সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মূল দর্শন ছিল—'ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়'। আমরা যদি সত্যিই দেশকে ভালোবাসি এবং বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই, তবে সবাইকে এই নীতি মেনে চলতে হবে। দেশের সমৃদ্ধির জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।”বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান বলেন, “১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর থেকেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা ঘটে। শহীদ জিয়াউর রহমানের বলিষ্ঠ ও বিরল নেতৃত্বের মাধ্যমেই সে সময় দেশে জাতীয় সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।”অপর বিশেষ অতিথি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন চরম সংকটে পড়েছিল, তখন সিপাহি-জনতার ঐক্যের মাধ্যমেই জাতি সংকটমুক্ত হয়। অর্জিত এই সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালযের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান, সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ।অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা।