শ্রীমঙ্গলের সময়

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা করার দাবি

অর্থনীতি · 2026-10-26T10:47:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

চারটি জোটের ৩৫টি শ্রমিক ফেডারেশন পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলার নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬–২০২৯ মেয়াদে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিকে সদস্য করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জোট ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) শীর্ষ নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. আবু জাফর। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন নাহিদুল ইসলাম নয়ন। সূচনা বক্তব্য দেন আবুল হোসেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৪১ ধারায় মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ১১টি বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মান, উৎপাদন খরচ, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, কাজের ধরন ও ঝুঁকি, কাজের মান, ব্যবসায়িক সক্ষমতা, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়। এসব মানদণ্ড বিবেচনা করেই ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা তৈরি পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয়ের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, যা মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮১ শতাংশ।

তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪–১৫ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩১ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। ওই সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছিল ২৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে গত ১০ বছরে এ খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, এ সময়ে তৈরি পোশাক কারখানা ও শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও রপ্তানি আয় বেড়েছে। তাই দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাতের উৎপাদনে সরাসরি যুক্ত শ্রমিকদের মজুরি জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের মাসিক ব্যয়ের হিসাবও তুলে ধরেন নেতারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গবেষণা ও সংস্থার হিসাব, মাথাপিছু আয় এবং দারিদ্র্যসীমার ওপরে জীবনযাপনের ব্যয় বিবেচনায় নিলে একটি শ্রমিক পরিবারের মাসিক খরচ ৫৭ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।

তারা বলেন, পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ব্যক্তি যদি মোট পারিবারিক ব্যয়ের ৬০ শতাংশ বহন করেন, তাহলে তার মাসিক আয় ৩৭ থেকে ৩৮ হাজার টাকা হওয়া প্রয়োজন। তবে বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন, বিনোদন, আকস্মিক অসুস্থতা, ঈদ-পূজার খরচ এবং বাড়িতে যাতায়াতের ব্যয় এসব হিসাবের বাইরে রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, চার সদস্যের একটি পরিবারের খাবারের খরচ ৩৫ হাজার ৮০ টাকা ধরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় সমান বিবেচনা করলে মোট মাসিক ব্যয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা দাঁড়ায়। তাদের মতে, শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা উচিত।

মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি বেতনকাঠামো, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৫ সালের বিশেষ জরিপ, বাজারদর, জীবনযাত্রার ব্যয়, মাথাপিছু আয়, উৎপাদনশীলতা, মূল্য সংযোজন, প্রতিযোগী দেশগুলোর ন্যূনতম মজুরি এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, মালিকদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিল্পের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশ্রমিকদের সহকারী অপারেটর পদে বা চাকরির শুরুতে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠন এবং সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমীন, বাচ্চু মিয়া, রফিকুল ইসলাম সুজন, আসাদ চৌধুরী, সালেহা ইসলাম সান্ত্বনা, সুমাইয়া ইসলাম, শামীমা আক্তার ও বাপ্পী দেব বর্মণসহ চারটি জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত