কতটা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, আঘাত হানতে পারে বুধবার
বিশ্ব · 2026-10-26T04:53:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা | ওড়িশাতেও সতর্কতা
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় অর্ণব ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বা দুপুরের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূলের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় আঘাত হানতে পারে ঝড়টি। স্থলভাগে প্রবেশের সময় এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আইএমডির তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার ঝড়টি আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
সোমবারের পূর্বাভাসে ঝড়টির কেন্দ্র বঙ্গোপসাগরের মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থান করছিল। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত উপকূলে আঘাতের সময় এবং প্রভাবের ব্যাপ্তি।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বৃষ্টি এবং সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের ২৬ অক্টোবরের পূর্বাভাসে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, বিশেষ করে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর। তবে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাব কোন কোন জেলায় কতটা পড়বে, তা সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিনের ওপর নির্ভর করবে।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা নিয়মিত পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে এবং সমুদ্রগামী নৌযানকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।