বদলগাছীতে স্ত্রী থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে বিয়ের আয়োজন, প্রশ্ন শরিয়ত নিয়ে
সারাদেশ · 2026-10-26T04:41:13.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
নওগাঁর বদলগাছীতে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ের আয়োজনের দাবি ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে রাখার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আলোচিত বিয়ের প্রকৃত অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নওগাঁর বদলগাছীতে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করার ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আলোচিত টিকটকার মাসুদ রানা ও তাঁর স্ত্রী মৌসুমীর দাম্পত্য জীবন ঘিরে বিষয়টি সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমীর ছোট বোন পূর্ণিমার সঙ্গে মাসুদ রানার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার তাঁর ভাড়া বাসায় গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামি শরিয়তের বিধান, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়ভাবে আলোচিত এ ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ কি না। এ বিষয়ে ইসলামি বিধানে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মীয় ব্যক্তিরা।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষের জন্য একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে রাখা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে যেসব নারীর সঙ্গে বিবাহ হারাম, তাঁদের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর বোনকে বিয়ে করা শরিয়তসম্মত নয়।
এ বিষয়ে মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, “আল্লাহ পাক যা হারাম ঘোষণা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে হারাম বা নিষিদ্ধ।” তিনি জানান, পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে দুই বোনকে একসঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করে সংসার করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদ বা স্ত্রীর মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হলে পরবর্তী সময়ে তাঁর বোনকে বিয়ে করার বিষয়টি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিবেচিত হতে পারে। তবে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর বোনকে বিয়ে করা বৈধ নয়।
ধর্মীয় বিধানের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনা পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে দুই বোনের পারস্পরিক সম্পর্ক, দাম্পত্য জীবনের স্থিতিশীলতা এবং পরিবারের সদস্যদের অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নানা আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কেউ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি বলে জানা গেছে। ফলে বিয়ের প্রকৃত অবস্থা, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আয়োজনের বিস্তারিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর বোনকে বিয়ে করার বিষয়টি ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ। তাই আলোচিত ঘটনাটির ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।