২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম, সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জানুন
অর্থনীতি · 2026-10-26T04:53:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতার যোগ্যতা, আয়বর্ষ, সময়সীমা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। এনবিআরের e-Return পোর্টালে নিবন্ধন, আয়ের বিবরণী পূরণ, প্রযোজ্য কর পরিশোধ এবং রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র সংগ্রহের নিয়ম এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। করদাতাদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে করদাতাকে জানতে হবে তাঁর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না, কোন আয়বর্ষের হিসাব দিতে হবে, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং অনলাইনে কীভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ব্যবস্থায় এখন ঘরে বসেই ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
২০২৬–২৭ করবর্ষের জন্য এনবিআর অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালু করেছে এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ও পরিপত্রও প্রকাশ করেছে। ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার, বাড়িভাড়ার আয় রয়েছে এমন ব্যক্তি এবং অন্যান্য করদাতার জন্য সঠিক নিয়ম জেনে রিটার্ন জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রতিবেদনে আয়কর রিটার্নের প্রাথমিক ধারণা থেকে শুরু করে করদাতার যোগ্যতা, সময়সীমা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অনলাইন নিবন্ধন, রিটার্ন পূরণ, কর পরিশোধ, জমার প্রমাণপত্র এবং সাধারণ ভুল—সবকিছু ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
আয়কর রিটার্ন কী এবং কেন জমা দিতে হয়?
আয়কর রিটার্ন হলো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে একজন করদাতার আয়, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, সম্পদ, দায়, কর পরিশোধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক বিবরণী। এর মাধ্যমে করদাতার আয় ও প্রদেয় করের হিসাব নির্ধারিত নিয়মে উপস্থাপন করা হয়।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া এবং আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তির করযোগ্য আয় না থাকলেও আইন অনুযায়ী তাঁর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। আবার করযোগ্য আয় থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে কর হিসাব করে পরিশোধ করতে হতে পারে। তাই শুধু আয়কর দিতে হবে কি না, তা বিবেচনা করে রিটার্ন জমার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
এনবিআরের আয়করসংক্রান্ত সচরাচর জিজ্ঞাসা ও উত্তর পৃষ্ঠায় রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা, করদিবস, অনলাইন রিটার্ন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।
করবর্ষ ও আয়বর্ষের পার্থক্য কী?
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে করবর্ষ ও আয়বর্ষের পার্থক্য বোঝা জরুরি। সাধারণভাবে, যে সময়ে আয় অর্জিত হয় সেটি আয়বর্ষ এবং সেই আয়ের ওপর কর নির্ধারণের সংশ্লিষ্ট পরবর্তী সময়কে করবর্ষ বলা হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত করব্যবস্থায় সাধারণত ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে একটি আয়বর্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই আয়বর্ষের আয় পরবর্তী করবর্ষের রিটার্নে দেখানো হয়।
২০২৬–২৭ করবর্ষের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ ও মূল্যায়নের সময়সীমা এনবিআরের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতি, যেমন প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়া বা নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে, সাধারণ নিয়ম থেকে আলাদা বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তাই অনলাইন ফরমে করবর্ষ ও আয়বর্ষ নির্বাচন করার সময় অনুমান না করে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমার শেষ তারিখ কবে?
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সাধারণ নিয়মে করদিবস হলো ৩০ নভেম্বর। এনবিআরের FAQ-তে বলা হয়েছে, সাধারণত ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পূর্ববর্তী ৩০ জুনে শেষ হওয়া আয়বর্ষের রিটার্ন দাখিল করতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতার জন্য আলাদা করদিবস থাকতে পারে এবং সরকার বা এনবিআর আইনসম্মতভাবে সময়সীমা পরিবর্তন করলে সংশোধিত তারিখ প্রযোজ্য হবে।
সেই হিসাবে ২০২৬–২৭ করবর্ষের সাধারণ রিটার্নের জন্য ৩০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে এনবিআরের সর্বশেষ নোটিশ দেখে নিতে হবে, কারণ সময়সীমা বাড়ানো বা বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হলে সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়া করদাতা এবং বিদেশে অবস্থানরত নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন করদিবসের বিধান রয়েছে। এনবিআরের FAQ অনুযায়ী, আগে কখনো রিটার্ন দাখিল করেননি এমন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্যও বিশেষ সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী তারিখ যাচাই করা জরুরি।
কারা আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন?
বাংলাদেশে রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা শুধু আয়করযোগ্য আয়ের ওপর নির্ভর করে না। এনবিআরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যাদের করযোগ্য আয় রয়েছে এবং যাদের আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন দিতে হয়—দুই শ্রেণির ব্যক্তিরই রিটার্নের প্রয়োজন হতে পারে।
চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, বাড়িভাড়ার আয় রয়েছে এমন ব্যক্তি, একাধিক উৎস থেকে আয় করেন এমন ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী TIN-ধারীদের নিজেদের অবস্থান যাচাই করা উচিত। কোনো ব্যক্তির আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে রিটার্ন বাধ্যতামূলক কি না, তা আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হবে।
আবার TIN থাকা মানেই প্রত্যেক পরিস্থিতিতে একই নিয়মে রিটার্ন দিতে হবে—এমন নয়। করদাতার পেশা, আয়ের ধরন, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন কি না, সেসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।
২০২৬–২৭ করবর্ষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কেও বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। এনবিআরের প্রকাশিত FAQ অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক, তবে সেখানে উল্লেখিত নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতা ও অনুমোদিত ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে আলাদা বিধান প্রযোজ্য হতে পারে।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে কোথায় যেতে হবে?
ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা এনবিআরের নির্ধারিত e-Return পোর্টালে প্রবেশ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এর জন্য কোনো অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা তৃতীয় পক্ষের লিংক ব্যবহার না করে সরাসরি সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করা উচিত।
অনলাইন রিটার্ন জমার সরকারি লিংক: https://etaxnbr.gov.bd/
এনবিআরের FAQ অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন দিতে প্রথমে e-Return সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের জন্য সাধারণত TIN এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে লগইন করে প্রোফাইলের তথ্য হালনাগাদ এবং রিটার্নের বিভিন্ন অংশ পূরণ করা যায়।
যাদের e-TIN নেই, তাঁদের জন্য NBR-এর e-TIN সেবা রয়েছে। তবে TIN খোলার আগে নিজের ক্ষেত্রে TIN নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও রিটার্নের বাধ্যবাধকতা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কী কী তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে?
অনলাইনে রিটার্ন পূরণের সময় সাধারণত বিভিন্ন আয়ের খাত, বিনিয়োগ, পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং আগে পরিশোধিত করের তথ্য দিতে হয়। সব করদাতার জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না; ব্যক্তির পেশা, আয় ও সম্পদের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি ভিন্ন হতে পারে।
চাকরিজীবীদের বেতন বিবরণী, নিয়োগকর্তার দেওয়া বার্ষিক আয়সংক্রান্ত সনদ, উৎসে কর কর্তনের তথ্য এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রমাণ প্রস্তুত রাখা উচিত। ব্যবসায়ীদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক বিবরণী, ব্যবসাসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক নথি এবং অন্যান্য আয়ের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। বাড়িভাড়ার আয় থাকলে ভাড়ার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব এবং ব্যাংক বা আর্থিক সম্পদ থেকে আয় থাকলে তার প্রমাণও কাজে আসতে পারে।
সম্পদ ও দায়ের বিবরণী প্রয়োজন হলে ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়, জমি-ফ্ল্যাট, যানবাহন, ঋণ এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। সব তথ্যের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নথির মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে প্রয়োজন হলে করদাতা নিজের দেওয়া হিসাব ব্যাখ্যা করতে পারেন।
এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন FAQ-তে বলা হয়েছে, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সাধারণভাবে সহায়ক কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; তবে তথ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সামনে রেখে নির্ভুলভাবে তথ্য দিতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে কাগজপত্রের প্রয়োজন নেই—যাচাই বা পরবর্তী প্রয়োজনে সেগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।
ধাপে ধাপে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম
প্রথমে NBR e-Return পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। আগে নিবন্ধন করা না থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন করে লগইন করতে হবে। এরপর রিটার্ন দাখিলের অংশে গিয়ে করবর্ষ, আয়বর্ষ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় মৌলিক তথ্য দিতে হবে।
এরপর নিজের আয়ের ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য খাত নির্বাচন করতে হবে। এনবিআরের নির্দেশনায় চাকরি থেকে আয়, বাড়িভাড়া থেকে আয়, কৃষি আয়, ব্যবসার আয়, মূলধনি লাভ, আর্থিক সম্পদ থেকে আয় এবং অন্যান্য উৎসের আয়ের মতো খাতের উল্লেখ রয়েছে। যে খাত থেকে আয় নেই, সেটি সম্পর্কে ফরমের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে; কোনো আয় বা তথ্য গোপন করা যাবে না।
পরবর্তী ধাপে প্রযোজ্য বিনিয়োগ, পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ ও দায় এবং কর পরিশোধের তথ্য পূরণ করতে হবে। উৎসে কাটা কর, অগ্রিম কর বা আগে পরিশোধ করা করের সমন্বয় প্রযোজ্য হলে সেগুলোর তথ্যও সঠিকভাবে দিতে হবে। কোনো তথ্যের হিসাব নিশ্চিত না হলে অনুমান করে সংখ্যা বসানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করতে হবে।
সব তথ্য পূরণ করার পর রিটার্নের পূর্ণ বিবরণী দেখে আয়, করযোগ্য আয়, প্রদেয় কর, উৎসে কর কর্তন, বিনিয়োগ এবং সম্পদের তথ্য মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো ভুল থাকলে সাবমিট করার আগে সংশোধন করতে হবে। এরপর সিস্টেমে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী রিটার্ন জমা দিতে হবে।
এনবিআরের FAQ অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের পর সিস্টেম থেকে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা Acknowledgement Slip এবং Tax Certificate পাওয়া যায়। সাধারণত এগুলো Tax Record অংশ থেকে দেখা বা প্রিন্ট করা যায়।
অনলাইনে আয়কর কীভাবে পরিশোধ করবেন?
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কর প্রদেয় থাকলে e-Return সিস্টেমে প্রদর্শিত নির্দেশনা অনুযায়ী কর পরিশোধ করতে হবে। এনবিআরের প্রকাশিত তথ্যে ব্যাংক ট্রান্সফার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং সমর্থিত মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে, তা পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান বিকল্পের ওপর নির্ভর করবে।
কর পরিশোধের আগে হিসাব করে দেখতে হবে, মোট প্রদেয় করের বিপরীতে আগে উৎসে কর কাটা হয়েছে কি না, অগ্রিম কর দেওয়া হয়েছে কি না এবং অন্য কোনো বৈধ কর সমন্বয় প্রযোজ্য কি না। এসব তথ্য সঠিকভাবে দেখানো না হলে প্রকৃত প্রদেয় করের হিসাব ভুল হতে পারে।
কর পরিশোধের পর লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। অর্থ জমা হলেও সিস্টেমে তথ্য হালনাগাদ না হলে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে কর পরিশোধের অবস্থা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে এনবিআরের সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কোন নথি সংরক্ষণ করবেন?
রিটার্ন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর Acknowledgement Slip, Tax Certificate এবং সম্পূর্ণ রিটার্নের কপি সংরক্ষণ করা উচিত। ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ঋণ, সম্পত্তি বা অন্য কোনো সেবা গ্রহণের সময় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু স্ক্রিনে রিটার্ন জমা হয়েছে এমন বার্তা দেখেই কাজ শেষ না করে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র তৈরি হয়েছে কি না এবং রিটার্নের কপি দেখা যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। কর পরিশোধ করা হয়ে থাকলে তার প্রমাণও সংরক্ষণ করতে হবে।
এনবিআরের FAQ অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর সাধারণভাবে পুনরায় কর সার্কেলে একই রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে বিশেষ নোটিশ, যাচাই বা অন্য কোনো আইনগত নির্দেশনা পাওয়া গেলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।
অনলাইনে রিটার্ন দিতে সমস্যা হলে কী করবেন?
নিবন্ধন, লগইন, মোবাইল নম্বর যাচাই, কর পরিশোধ বা রিটার্ন সাবমিট করতে সমস্যা হলে প্রথমে e-Return পোর্টালের নির্দেশনা এবং এনবিআরের FAQ দেখতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
এনবিআরের ওয়েবসাইটে e-Return-সংক্রান্ত সহায়তার তথ্য এবং যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। NBR-এর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা উচিত। এনবিআরের সাইটে প্রদর্শিত e-Return হটলাইন নম্বরও ব্যবহার করা যেতে পারে; নম্বর ও সেবার সময় প্রকাশের আগে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
যারা অনলাইনে রিটার্ন দিতে আইনগতভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন বা নির্দিষ্ট অনুমোদিত কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প পদ্ধতির নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তবে অনলাইনে সমস্যা হলেই ইচ্ছামতো কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে—এমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
রিটার্ন পূরণের সময় নিজের আয়ের কোনো উৎস বাদ দেওয়া, বেতন বা ব্যবসার আয় ভুল দেখানো, উৎসে কর কর্তনের হিসাব না মেলানো, সম্পদ ও দায়ের তথ্য অসংগত রাখা এবং ভুল করবর্ষ নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ ভুলের মধ্যে পড়ে। একইভাবে অন্যের দেওয়া হিসাব যাচাই না করে নিজের রিটার্নে ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ।
TIN আছে বলে রিটার্নে সব তথ্য আগে থেকেই পূরণ করা থাকবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। আগের বছরের তথ্য থাকলেও বর্তমান আয়বর্ষের সঙ্গে মিলিয়ে হালনাগাদ করতে হবে। অনলাইন সিস্টেমে কোনো তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে এলে সেটি যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করা উচিত।
রিটার্ন জমার শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে আগেই নথি প্রস্তুত করা ভালো। এতে ভুল সংশোধন, কর পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার সময় পাওয়া যায়। আর্থিক বা আইনগত জটিলতা থাকলে যোগ্য কর পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
আয়কর রিটার্ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি লিংক
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে পাঠকরা নিচের সরকারি ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
NBR-এর মূল ওয়েবসাইট থেকে আয়কর নির্দেশিকা, পরিপত্র, আইন ও প্রজ্ঞাপন যাচাই করা যাবে। NBR e-Return পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা যাবে। নতুন TIN-এর প্রয়োজন হলে e-TIN সেবা দেখা যেতে পারে। আর আইনি বিধান যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশের আইনভান্ডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
রিটার্ন জমার সময়সীমা, করমুক্ত সীমা, করের হার, কর রেয়াত এবং বাধ্যতামূলক রিটার্নের শ্রেণি পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো বছরের তথ্যের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।