শিক্ষা ক্যাডারে বৈষম্যের জন্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করলেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা · 2026-11-02T16:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগের পর যথাযথ ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অন্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ পরিস্থিতির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন তিনি।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগের পর যথাযথ ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রশাসনসহ অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ বৈষম্যের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা চার-পাঁচ মাস প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মস্থলে যোগ দেন। অথচ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তাঁরা কোনো ধরনের ওরিয়েন্টেশন ছাড়াই সরাসরি শিক্ষকতায় যোগ দেন। প্রশাসন ও শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে এ পার্থক্যের কারণে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়ার পর কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেন এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মস্থলে যোগ দেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতেও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের জন্য কোনো ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি নেই। এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়নের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের অনেক সময় ছোট করে দেখা হয়। অথচ তাঁরাও বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পান। অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো একই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তাঁরা শিক্ষকতায় আসেন।
উচ্চশিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা নিয়ে তেমন কথা হয় না। ধরে নেওয়া হয়, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পড়বেন ও শিখবেন। কিন্তু এসব পর্যায়ে শিক্ষার মান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও দেখা প্রয়োজন।
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে এআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কেও ধারণা নিতে হবে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দের প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে।
শিক্ষকদের উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ জন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। কেউ যদি শিক্ষকদের উন্নয়নের চিন্তা না করেন, তাহলে তাঁকে কি আপনারা মন্ত্রিত্ব দিতেন?
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং নায়েমের প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক প্রিম রিজভী। এতে সভাপতিত্ব করেন নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক।