শ্রীমঙ্গলের সময়

৩১ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে বসবে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, সহায়তা মিলবে যেভাবে

শিক্ষা · 2026-11-02T16:29:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

দেশের ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। আগ্রহী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কারিগরি সহায়তা, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও চুক্তির খসড়া সরবরাহ করবে ইউজিসি।

দেশের ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এ ব্যবস্থা চালু করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা, নির্দেশনা ও চুক্তির খসড়া সরবরাহ করবে কমিশন। তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না; বরং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসির উদ্যোগে আয়োজিত ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনবিষয়ক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বক্তব্য দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন নিয়ে বিদ্যমান বিভ্রান্তি দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন ইতোমধ্যে একটি জরিপ পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি উদ্যোগটি বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, গঠিত দলটি ইউজিসির নিজস্ব ভবনসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাই করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপাচার্যদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা, চুক্তির খসড়া ও প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহ করবে কমিশন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধে ব্যয় হয়। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে এ ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য পরিচালন ব্যয়ভিত্তিক বা ওপেক্স (OPEX) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ওপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগের উদাহরণ তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের ব্যবস্থা চালুর সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনই উদ্যোগ নিলে আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ কতটা কমছে, তা নিরূপণের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের প্রক্রিয়ায় ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন, সক্ষমতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার ও ইউজিসি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন একটি সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর ঢাকায় ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ আয়োজনের কথা জানান তিনি।

সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব তাহমিলুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও ওপেক্স মডেলে এর সম্প্রসারণ নিয়ে পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি ও রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আবদুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ইউজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত