২০২৬–২৭ করবর্ষে আয়কর রিটার্ন জমার শেষ তারিখ কবে?
অর্থনীতি · 2026-11-08T08:32:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আইনগত করদিবস ৩০ নভেম্বর ২০২৬। NBR-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে, তবে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিলম্বে অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে। প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীর জন্যও বিশেষ করদিবস ৩০ জুন ২০২৭।
আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা জানা জরুরি, কারণ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে বিলম্বজনিত অতিরিক্ত কর বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে ২০২৬–২৭ করবর্ষে সবার জন্য শেষ তারিখ এক নয়—সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা, প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী এবং বিশেষ শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে সময়সীমা আলাদা হতে পারে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাধারণ করদাতার নির্ধারিত করদিবস এবং প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীর বিশেষ করদিবস এক করে দেখা যাবে না।
২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ করদাতার করদিবস
আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, কোম্পানি নয় এমন সাধারণ করদাতার করদিবস হলো আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী বছরের ৩০ নভেম্বর। সে হিসাবে ২০২৬–২৭ করবর্ষের সাধারণ করদাতার করদিবস ৩০ নভেম্বর ২০২৬।
অর্থাৎ সাধারণ নিয়মে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত আয়বর্ষের রিটার্ন ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। তবে এবারের ক্ষেত্রে NBR-এর ই-রিটার্ন FAQ-তে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত রিটার্ন জমার সুযোগ এবং সময়ভেদে কর-প্রণোদনা বা অতিরিক্ত করের হিসাবও উল্লেখ রয়েছে। তাই করদিবস এবং অতিরিক্ত কর ছাড়া রিটার্ন জমার শেষ সময়কে এক বিষয় মনে করা ঠিক হবে না।
৩০ নভেম্বরের পরেও কি রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে?
NBR-এর ২০২৬–২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন FAQ অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতারা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে কোন সময়ে রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তার ওপর কর-প্রণোদনা বা অতিরিক্ত করের প্রভাব পড়তে পারে।
NBR-এর প্রকাশিত সময়ভিত্তিক হিসাবটি হলো:
রিটার্ন জমার সময়
করের ওপর প্রভাব
১ জুলাই–৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিট প্রদেয় করের ৫% প্রণোদনা; সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা
১ অক্টোবর–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
কোনো প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর নেই
১ জানুয়ারি–৩১ মার্চ ২০২৭
নিট প্রদেয় করের ২% অতিরিক্ত কর; সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা
১ এপ্রিল–৩০ জুন ২০২৭
নিট প্রদেয় করের ৫% অতিরিক্ত কর; সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা
এখানে উল্লেখিত অতিরিক্ত কর বা প্রণোদনা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হিসাব হবে। করদাতার প্রকৃত করযোগ্য আয়, নিট প্রদেয় কর এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারিত হবে।
প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীর শেষ তারিখ কি আলাদা?
হ্যাঁ। আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি আগে কখনো আয়কর রিটার্ন জমা না দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর জন্য করদিবস হলো আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী বছরের ৩০ জুন।
সুতরাং ২০২৬–২৭ করবর্ষের রিটার্নের ক্ষেত্রে প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারী সাধারণ ব্যক্তির বিশেষ করদিবস ৩০ জুন ২০২৭। তবে প্রথমবার রিটার্ন দাখিলকারীর ক্ষেত্রে নিজের পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য বিধান যাচাই করে নেওয়া উচিত।
কোম্পানি ও বিশেষ শ্রেণির করদাতার সময়সীমা
কোম্পানি করদাতার করদিবস সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার মতো ৩০ নভেম্বর নয়। আয়কর আইন, ২০২৩-এ কোম্পানির জন্য পৃথক করদিবস নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বিদেশে অবস্থানরত নির্দিষ্ট ব্যক্তি করদাতা এবং অন্যান্য বিশেষ শ্রেণির ক্ষেত্রেও আলাদা সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে।
তাই কোম্পানি বা বিশেষ শ্রেণির করদাতা হলে সাধারণ ব্যক্তির সময়সীমা অনুসরণ না করে নিজের শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য বিধান যাচাই করতে হবে।
সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
রিটার্ন জমার শেষ দিনের অপেক্ষা না করে আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা ভালো। বেতন সনদ, ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব, বিনিয়োগের তথ্য, উৎসে কর কর্তনের সনদ এবং সম্পদ ও দায়ের বিবরণ আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন।
সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির অধিকাংশ করদাতার জন্য ২০২৬–২৭ করবর্ষে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই TIN, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রস্তুত রাখুন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার সরকারি ওয়েবসাইট: https://etaxnbr.gov.bd/
রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হলে এটি কাজে লাগবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: ২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ করদাতার রিটার্ন জমার শেষ তারিখ কবে?
উত্তর: সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আইনগত করদিবস ৩০ নভেম্বর ২০২৬। তবে NBR-এর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশ্ন: ৩০ নভেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে কি জরিমানা হবে?
উত্তর: ৩০ নভেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলেই প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একই জরিমানা হবে—এমন নয়। NBR-এর ২০২৬–২৭ করবর্ষের নির্দেশনায় সময়ভেদে প্রণোদনা ও অতিরিক্ত করের হিসাব দেওয়া হয়েছে। করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী তা প্রযোজ্য হবে।
প্রশ্ন: প্রথমবার TIN করে রিটার্ন দিলে শেষ তারিখ কবে?
উত্তর: আগে কখনো রিটার্ন জমা দেননি—এমন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য আইনে বিশেষ করদিবসের বিধান রয়েছে। ২০২৫–২৬ আয়বর্ষের জন্য সেটি ৩০ জুন ২০২৭।
প্রশ্ন: ২০২৭ সালের জুন মাসে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে?
উত্তর: NBR-এর FAQ অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতারা ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে জমা দিলে নির্ধারিত অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশ্ন: অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: ২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির অধিকাংশ করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক। তবে NBR নির্ধারিত কিছু শ্রেণি এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে কাগজে রিটার্ন জমার সুযোগ রয়েছে।
শেষ কথা
২০২৬–২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আইনগত করদিবস ৩০ নভেম্বর ২০২৬। তবে NBR-এর প্রকাশিত ই-রিটার্ন নির্দেশনায় ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত রিটার্ন জমার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং জমার সময় অনুযায়ী প্রণোদনা বা অতিরিক্ত করের বিধান রয়েছে।
তাই শুধু রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ আছে ভেবে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত কর এড়ানো যায় এবং করসংক্রান্ত দায়িত্বও সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হয়।