শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, গাজীপুরে নামানো হলো বিজিবি
জাতীয় · 2026-11-03T06:31:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। নতুন করে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করায় জেলায় মোট বিজিবির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ প্লাটুনে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করা হয়েছে।
গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে জেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন করে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এতে জেলায় বিজিবির মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ প্লাটুনে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আগে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলনের নামে যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান আরিফ হোসাঈন। বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন পোশাকশ্রমিকেরা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সড়কে অবস্থান নিতে দেননি। এ সময় বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের দলবদ্ধভাবে কাজে যোগ দিতে দেখা যায়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, সকাল ৮টার কিছু আগে শ্রমিকেরা মৌচাক এলাকায় মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলন চলাকালে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি এবং একটি কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি কারখানায় ছুটিও ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।