শ্রীমঙ্গলের সময়

রেলযাত্রায় নতুন সুবিধা, ঘরে বসেই ট্রেনের অবস্থান জানুন

জাতীয় · 2026-11-03T05:48:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ট্র্যাকিং সেবার মাধ্যমে ১৬৩১৮ নম্বরে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের অবস্থান ও বিলম্বের তথ্য জানা যায়। এ জন্য স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট প্রয়োজন হয় না। তবে সব ট্রেন এই সেবার আওতায় নাও থাকতে পারে এবং এসএমএস চার্জ অপারেটরভেদে ভিন্ন হতে পারে।

ট্রেন কখন স্টেশনে পৌঁছাবে, নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কতটা দেরি হচ্ছে কিংবা যাত্রাপথে সর্বশেষ কোন স্টেশন অতিক্রম করেছে—এসব জানতে এখন আর সব সময় স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করতে হয় না। মোবাইল ফোন থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েই বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ট্র্যাকিং সেবার মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান ও চলাচলসংক্রান্ত তথ্য জানা সম্ভব। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রী, ট্রেন ধরতে স্টেশনে যাওয়া ব্যক্তি এবং পরিবারের সদস্যদের যাত্রার খোঁজ রাখতে চান—এমন মানুষের জন্য এই সুবিধা বেশ কার্যকর।

বাংলাদেশে ট্রেনযাত্রার জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আন্তনগর, মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেনে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করেন। ঈদ, পূজা, সরকারি ছুটি কিংবা সপ্তাহান্তে যাত্রীচাপ আরও বেড়ে যায়। এ সময় ট্রেনের বিলম্ব হলে যাত্রীদের স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। আবার বাড়ি থেকে কাউকে ট্রেনে তুলে দিতে আসা স্বজনদেরও ট্রেনের অবস্থান জানতে বারবার খোঁজ নিতে হয়।

এ ধরনের ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রয়েছে ট্রেন ট্র্যাকিং অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম বা টিটিএমএস (TTMS)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ট্রেনের নম্বর অথবা কোড ব্যবহার করে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠালে ফিরতি বার্তায় ট্রেনের অবস্থান ও চলাচলসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। ফলে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও সাধারণ মোবাইল ফোন দিয়ে সেবাটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা কী?

ট্রেন ট্র্যাকিং অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম হলো বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণের একটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা। রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থায় জিপিএস ও জিপিআরএস প্রযুক্তির সহায়তায় ট্রেনের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মাধ্যমে রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ট্রেন চলাচলের তথ্য জানতে পারে এবং যাত্রীরাও নির্দিষ্ট নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি নথি অনুযায়ী, ট্রেন ট্র্যাকিং অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি চালু করা হয়। এর মাধ্যমে যাত্রীরা ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের অভিমুখ, ছাড়ার সময়, বর্তমান অবস্থান, পরবর্তী স্টেশন এবং বিলম্বের তথ্য জানতে পারেন।

এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এটি ব্যবহার করতে স্মার্টফোন বা মোবাইল ইন্টারনেট বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণ মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশন ব্যবহার করেই ট্রেনের অবস্থান জানার অনুরোধ পাঠানো যায়।

ঘরে বসে এসএমএসের মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান জানার নিয়ম

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা ব্যবহার করতে খুব বেশি প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন নেই। শুধু সঠিক ট্রেন নম্বর বা কোড জানা থাকলেই নির্ধারিত পদ্ধতিতে এসএমএস পাঠানো যায়।

প্রথমে আপনার মোবাইল ফোনের মেসেজ বা SMS অপশনে প্রবেশ করুন। এরপর নতুন মেসেজ লেখার জায়গায় ইংরেজিতে TR লিখুন। একটি স্পেস দিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের নম্বর লিখুন। সবশেষে মেসেজটি পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে।

উদাহরণ হিসেবে, সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ৭০১ নম্বর ট্রেনের অবস্থান জানতে চাইলে মেসেজে লিখতে হবে:

TR 701

এরপর মেসেজটি পাঠাতে হবে:

16318

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে ফিরতি এসএমএসে ট্রেনটির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার কথা। ট্রেন নম্বরের পরিবর্তে সমর্থিত ক্ষেত্রে ট্রেনের কোড বা নাম ব্যবহার করেও তথ্য চাওয়া যায়। যেমন, সুবর্ণ এক্সপ্রেসের জন্য TR Subarna লিখে পাঠানোর নির্দেশনা বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত ট্র্যাকিং নির্দেশিকায় রয়েছে।

তবে ট্রেনের নাম বা কোড লেখার ক্ষেত্রে ইংরেজি বানান ও নির্দিষ্ট কোড সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। ভুল নম্বর বা ভুল কোড পাঠালে কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে।

ফিরতি এসএমএসে কী কী তথ্য পাওয়া যায়?

১৬৩১৮ নম্বরে সঠিকভাবে এসএমএস পাঠানোর পর ফিরতি বার্তায় ট্রেনের বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। রেলওয়ের প্রকাশিত নমুনা বার্তায় ট্রেনের নম্বর, নাম, যাত্রার রুট, যাত্রা শুরুর সময়, পরবর্তী স্টেশন, পরবর্তী স্টেশনের দূরত্ব এবং বিলম্বের তথ্য দেখানো হয়েছে।

যেমন, ফিরতি বার্তায় নিচের মতো তথ্য থাকতে পারে:

  • Train Name: কোন ট্রেনের তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

  • Route: ট্রেনটি কোন রুটে চলাচল করছে।

  • Left: ট্রেনটি যাত্রার প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে কখন ছেড়েছে।

  • Next Station: ট্রেনটির পরবর্তী স্টেশন কোনটি।

  • Distance: পরবর্তী স্টেশন থেকে ট্রেনের আনুমানিক দূরত্ব।

  • Next Stop: পরবর্তী নির্ধারিত স্টপেজের তথ্য।

  • Delay: নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ট্রেনের বিলম্বের পরিমাণ।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত একটি নমুনা বার্তায় একতা এক্সপ্রেসের জন্য পরবর্তী স্টেশন, দূরত্ব এবং বিলম্বের তথ্য দেখানো হয়েছে। তবে ফিরতি বার্তার বিন্যাস ও তথ্যের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রতিটি এসএমএসে একই রকম তথ্য পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ট্রেনের নম্বর কোথায় পাবেন?

ট্রেন ট্র্যাকিংয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক ট্রেন নম্বর জানা। একই ট্রেনের যাত্রার দিক পরিবর্তন হলে নম্বরও আলাদা হতে পারে। তাই শুধু ট্রেনের নাম জানলেই সব সময় সঠিক নম্বর নির্বাচন করা সম্ভব হয় না।

ট্রেনের নম্বর জানার কয়েকটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, অনলাইনে কেনা ট্রেনের টিকিটে ট্রেনের নাম ও নম্বর দেখে নিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সময়সূচি বা ট্রেনসংক্রান্ত তথ্য থেকে নম্বর সংগ্রহ করা যায়। তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট স্টেশন বা রেলওয়ের অনুমোদিত তথ্যসেবা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়।

উদাহরণ হিসেবে, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত ট্র্যাকিং নির্দেশিকায় কয়েকটি আন্তনগর ট্রেনের নম্বর ও কোড উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সুবর্ণ এক্সপ্রেসের ৭০১ ও ৭০২, একতা এক্সপ্রেসের ৭০৫ ও ৭০৬, সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ৭২৫ ও ৭২৬ এবং সিল্ক সিটি এক্সপ্রেসের ৭৫৩ ও ৭৫৪ নম্বরের উল্লেখ রয়েছে।

তবে এই তালিকাকে সব ট্রেনের হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। নতুন ট্রেন চালু, সময়সূচি পরিবর্তন বা রুটের পরিবর্তনের কারণে ট্রেন নম্বর ও তথ্য হালনাগাদ হতে পারে। যাত্রার আগে নিজের টিকিট বা বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য থেকে নম্বর নিশ্চিত করুন।

সব ট্রেনের অবস্থান কি এসএমএসে জানা যায়?

ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা থাকলেও দেশের সব ট্রেনের অবস্থান একইভাবে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট কিছু ট্রেন ও রুটের ট্র্যাকিং তথ্য দেওয়া হয়েছে। সুতরাং কোনো ট্রেনের নম্বর থাকলেই সেটি ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ট্র্যাক করা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বিশেষ করে লোকাল, কমিউটার, মেইল বা বিশেষ ট্রেনের ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তি ও তথ্য সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে পারে। কোনো ট্রেনের তথ্য না এলে প্রথমে নম্বর ও কোড ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। এরপরও তথ্য না পেলে ট্রেনটির জন্য এসএমএস ট্র্যাকিং সুবিধা কার্যকর আছে কি না, তা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্যসেবা থেকে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করুন।

ট্রেন ট্র্যাকিং করতে কত টাকা খরচ হয়?

১৬৩১৮ নম্বরে ট্রেনের অবস্থান জানতে এসএমএস পাঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরের নির্ধারিত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সব অপারেটরের জন্য একই চার্জ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

উদাহরণ হিসেবে, গ্রামীণফোনের প্রকাশিত ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী এসএমএস চার্জ ৫ টাকা ৫৬ পয়সা, যা ভ্যাটসহ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলালিংকের সেবা-সংক্রান্ত পাতায় প্রতিদিনের সাবস্ক্রিপশন চার্জ ও প্রতি এসএমএসের চার্জের আলাদা তথ্য দেওয়া রয়েছে। ফলে অপারেটরভেদে চার্জের ধরন ও পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

এ কারণে ট্রেনের অবস্থান জানতে এসএমএস পাঠানোর আগে নিজের মোবাইল অপারেটরের হালনাগাদ চার্জ দেখে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে একই সেবা বারবার ব্যবহার করলে মোট খরচ সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা রাখা প্রয়োজন।

ট্রেনের অবস্থান জানতে এসএমএস পাঠিয়েও উত্তর না পেলে কী করবেন?

অনেক সময় সঠিকভাবে এসএমএস পাঠানোর পরও ফিরতি বার্তা আসতে দেরি হতে পারে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই উত্তর পাওয়া যায় না। এমন হলে কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

প্রথমে মেসেজের ফরম্যাট ঠিক আছে কি না দেখুন। TR লেখার পর একটি স্পেস দিয়ে ট্রেন নম্বর লিখতে হবে। নম্বরের আগে বা পরে অপ্রয়োজনীয় চিহ্ন কিংবা ভুল অক্ষর ব্যবহার করবেন না।

এরপর ট্রেন নম্বরটি যাচাই করুন। একই ট্রেনের দুই দিকের যাত্রায় আলাদা নম্বর থাকতে পারে। তাই টিকিটে উল্লেখ করা নম্বর অথবা রেলওয়ের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে সঠিক নম্বর ব্যবহার করুন।

মোবাইল ফোনে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স আছে কি না এবং আপনার অপারেটরের মাধ্যমে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর সুবিধা চালু আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করুন। নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করতে পারেন। তবে বারবার এসএমএস পাঠালে অতিরিক্ত চার্জ কাটতে পারে, তাই আগে সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।

এরপরও ফিরতি বার্তা না এলে ট্রেনটি ট্র্যাকিং সেবার আওতায় আছে কি না যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্যসেবা থেকে সহায়তা নিন।

ট্রেনের অবস্থান আর সময়সূচি কি একই বিষয়?

ট্রেনের অবস্থান এবং নির্ধারিত সময়সূচি দুটি আলাদা বিষয়। সময়সূচিতে একটি ট্রেন কখন ছাড়বে বা কখন নির্দিষ্ট স্টেশনে পৌঁছানোর কথা, তা উল্লেখ থাকে। অন্যদিকে ট্র্যাকিং সেবায় ট্রেনের চলমান অবস্থান ও বিলম্বের তথ্য পাওয়া যায়।

কোনো ট্রেনের সময়সূচিতে সকাল ১০টায় একটি স্টেশনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেটি বিলম্বের কারণে পরে পৌঁছাতে পারে। ট্র্যাকিং সেবার তথ্য ব্যবহার করে যাত্রী সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।

তবে এসএমএসে পাওয়া তথ্যকে সব পরিস্থিতিতে একেবারে নির্ভুল ও তাৎক্ষণিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। তথ্য হালনাগাদে বিলম্ব, নেটওয়ার্ক সমস্যা বা ট্র্যাকিং ব্যবস্থায় সাময়িক ত্রুটি থাকতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার ক্ষেত্রে স্টেশনের ঘোষণা ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট তথ্যও বিবেচনায় রাখা ভালো।

ট্রেন ট্র্যাকিং সেবার সুবিধা কারা বেশি পাবেন?

এই সেবা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগতে পারে তাঁদের, যাঁরা ট্রেন ধরার জন্য বাড়ি থেকে স্টেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ট্রেন দেরি করলে আগে থেকেই অবস্থান জানা গেলে স্টেশনে অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমতে পারে।

দূরপাল্লার যাত্রীর পরিবারের সদস্যরাও এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। কেউ ট্রেনে ভ্রমণ করলে তাঁর ট্রেনটি কোন স্টেশনের কাছাকাছি রয়েছে, কতটা বিলম্ব হচ্ছে কিংবা গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছে কি না—এসব তথ্য জানার জন্য পরিবারের সদস্য ট্রেন নম্বর ব্যবহার করে এসএমএস পাঠাতে পারেন।

স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না বা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত নন, এমন যাত্রীদের জন্যও এসএমএসভিত্তিক পদ্ধতি সুবিধাজনক। কারণ এতে আলাদা অ্যাপ ইনস্টল করা বা ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার প্রয়োজন হয় না।

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট ও ট্র্যাকিং কি একই সেবা?

অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেনা এবং ট্রেনের অবস্থান জানা দুটি আলাদা সেবা। অনলাইন টিকিটিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী ট্রেনের টিকিট কিনতে পারেন, আসন নির্বাচন ও ভ্রমণের তথ্য দেখতে পারেন। অন্যদিকে ট্রেন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে যাত্রাপথে ট্রেনের অবস্থান ও বিলম্বের তথ্য জানা যায়।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট হলো https://eticket.railway.gov.bd/। অনলাইনে টিকিট কেনার জন্য এই সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। আর ট্রেনের অবস্থান জানতে নির্দিষ্ট ট্রেন নম্বর দিয়ে ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

যাত্রার আগে টিকিটের তথ্য, ট্রেনের নম্বর, যাত্রার তারিখ ও সময় ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। টিকিটে উল্লেখ করা ট্রেনের নম্বরই ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।

ট্রেনের অবস্থান জানতে গিয়ে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা ব্যবহার করার সময় কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রথমত, ট্রেনের নম্বর ভুল হলে ভুল তথ্য আসতে পারে অথবা কোনো তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই নম্বর পাঠানোর আগে টিকিটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

দ্বিতীয়ত, ফিরতি এসএমএসে দেখানো অবস্থানকে সম্ভাব্য চলাচল-তথ্য হিসেবে বিবেচনা করুন। কোনো কারণে ট্রেনের চলাচলে হঠাৎ পরিবর্তন হলে এসএমএসে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব অবস্থানের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

তৃতীয়ত, এসএমএস চার্জ সম্পর্কে আগে জেনে নিন। অপারেটরভেদে চার্জের পার্থক্য থাকতে পারে। একই তথ্যের জন্য অপ্রয়োজনে বারবার এসএমএস পাঠাবেন না।

চতুর্থত, ট্রেনের বিলম্বের তথ্য দেখে স্টেশনে যাওয়ার সময় পরিকল্পনা করলেও শেষ মুহূর্তে রেলওয়ের ঘোষণা ও সংশ্লিষ্ট স্টেশনের তথ্য যাচাই করুন। ট্রেনের সময়সূচি ও অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।

ট্রেনের অবস্থান জানার জন্য প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট ও নম্বর

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা ব্যবহারের জন্য মূল তথ্যগুলো হলো:

  • এসএমএস নম্বর: ১৬৩১৮

  • মেসেজের ফরম্যাট: TR + একটি স্পেস + ট্রেন নম্বর

  • উদাহরণ: TR 701

  • ট্রেনের অবস্থান জানার মাধ্যম: ফিরতি এসএমএস

  • অনলাইন টিকিট: https://eticket.railway.gov.bd/

  • বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট: https://railway.gov.bd/

ট্রেন ট্র্যাকিং নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন

প্রশ্ন: মোবাইল ইন্টারনেট ছাড়া কি ট্রেনের অবস্থান জানা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। ১৬৩১৮ নম্বরে সাধারণ এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের অবস্থান জানার অনুরোধ করা যায়। এ জন্য স্মার্টফোন বা মোবাইল ইন্টারনেট বাধ্যতামূলক নয়। তবে এসএমএস পাঠানোর জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক ও প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স থাকতে হবে।

প্রশ্ন: ট্রেনের অবস্থান জানতে কোন নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে?

উত্তর: ১৬৩১৮ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। মেসেজে TR লিখে একটি স্পেস দিয়ে ট্রেনের নম্বর দিতে হবে। যেমন, TR 701।

প্রশ্ন: ট্রেনের নাম লিখে কি অবস্থান জানা যায়?

উত্তর: বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, সমর্থিত ট্রেনের ক্ষেত্রে ট্রেন নম্বর অথবা নির্দিষ্ট ট্রেন কোড ব্যবহার করে তথ্য চাওয়া যায়। তবে কোডের বানান সঠিক হতে হবে।

প্রশ্ন: সব ট্রেন কি এই সেবার মাধ্যমে ট্র্যাক করা যায়?

উত্তর: সব ট্রেনের জন্য সুবিধাটি কার্যকর—এমন নিশ্চয়তা নেই। নির্দিষ্ট ট্রেন ও রুটের ক্ষেত্রে ট্র্যাকিং তথ্য পাওয়া যায়। কোনো ট্রেনের তথ্য না এলে সেটি সেবার আওতায় আছে কি না যাচাই করতে হবে।

প্রশ্ন: ট্রেনের অবস্থান জানতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: মোবাইল অপারেটরভেদে এসএমএস বা সাবস্ক্রিপশন চার্জ আলাদা হতে পারে। তাই নিজের অপারেটরের হালনাগাদ চার্জ জেনে নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: ফিরতি এসএমএসে কি ট্রেনের বিলম্বের তথ্য পাওয়া যায়?

উত্তর: ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেনের বিলম্বের তথ্য পাওয়ার সুবিধা রয়েছে। তবে প্রতিটি ফিরতি বার্তায় একই ধরনের তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

প্রশ্ন: ট্রেনের অবস্থান জানতে এসএমএস পাঠিয়ে উত্তর না পেলে কী করবেন?

উত্তর: প্রথমে ট্রেন নম্বর ও মেসেজের ফরম্যাট পরীক্ষা করুন। এরপর মোবাইল ব্যালেন্স ও নেটওয়ার্ক যাচাই করুন। তারপরও তথ্য না এলে ট্রেনটি ট্র্যাকিং সেবার আওতায় আছে কি না নিশ্চিত করুন।

শেষ কথা

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন ট্র্যাকিং সেবা যাত্রীদের জন্য একটি কার্যকর ডিজিটাল সুবিধা। ১৬৩১৮ নম্বরে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে ট্রেনের অবস্থান, পরবর্তী স্টেশন এবং বিলম্বের তথ্য জানা সম্ভব। ফলে ট্রেনের জন্য স্টেশনে অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন কিছুটা কমানো যায়।

তবে এই সেবা ব্যবহার করার সময় সঠিক ট্রেন নম্বর জানা, ফিরতি বার্তার তথ্য বুঝে নেওয়া এবং মোবাইল অপারেটরের চার্জ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, ট্র্যাকিংয়ের তথ্য সব পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ হালনাগাদ নাও হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার আগে টিকিটের তথ্য ও স্টেশনের ঘোষণা মিলিয়ে চলাই সবচেয়ে ভালো।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত