মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, অপহৃত-নিখোঁজ ৬৩ জনকে উদ্ধার; আলোচনায় উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার
সিলেটের খবর · 2026-11-03T11:22:00.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার
উখিয়ায় ৯০ দিনে ৬০৪ জন গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস
কক্সবাজারের উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং অপরাধ দমনে গত ৯০ দিনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে উখিয়া থানা পুলিশ। ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৬০৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। এ সময়ে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অপহরণ মামলা ও নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে ৬৩ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এসব সাঁড়াশি অভিযান স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে। মাদক কারবারি, পরোয়ানাভুক্ত আসামি, নিয়মিত মামলার আসামি এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।তিন মাসে ৬৪৬ জনের বেশি গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপউখিয়া থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে ৬১ জন মাদক ব্যবসায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২৩৯ জন এবং নিয়মিত মামলার ১৮৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া অপরাধ দমনে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে:৫৪ ধারায়: ২ জন১৫১ ধারায়: ১২ জনদণ্ডবিধির ২৯০ ধারায়: ২ জনমোবাইল কোর্টের মাধ্যমে: বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে ৩২ জনকে।কিশোর গ্যাং: অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে গ্যাংয়ের ৬৭ সদস্যকে।অপহৃত ও নিখোঁজ ৬৩ জন উদ্ধারঅপহৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে গত তিন মাসে উখিয়া থানা পুলিশের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তৎপর। পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৪টি অপহরণ মামলায় (১০টি শিশু ও ৪টি ব্যক্তি অপহরণ মামলা) মোট ১৭ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন শিশু ও ৬ জন অন্যান্য ব্যক্তি রয়েছেন।এছাড়া নিখোঁজ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে আরও ৪৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অপহৃত ও নিখোঁজ মিলিয়ে মোট ৬৩ জনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।৩ লাখ ৩১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারগত ৯০ দিনের মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে পুলিশ।মাদকদ্রব্য: ৩ লাখ ৩১ হাজার ৮৬৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১১৮.৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং ৩ কেজি গাঁজা।অস্ত্র ও গোলাবারুদ: ১টি পিস্তল, ১টি ওয়ান শুটার গান, ১টি একনলা বন্দুক, ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি ও ১টি ছোরা।অন্যান্য জব্দ: মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৪টি টমটম, ১টি সিএনজি, ৩টি মোবাইল ফোন, চোরাচালানের ৫৪ বস্তা সার এবং ২ হাজার পিস ইনজেকশন।সচেতন মহল মনে করছেন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি যেমন স্বস্তিদায়ক, তেমনি মাদক সরবরাহের মূল উৎস ও সিন্ডিকেটের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা গেলে অপরাধ স্থায়ীভাবে দমন সম্ভব হবে।২৬৩টি মামলা ও দ্রুত নিষ্পত্তিআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গতিশীলতা বজায় রাখতে মামলার জট কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। গত তিন মাসে উখিয়া থানায় ২৬৩টি জিআর মামলা রুজু হয়েছে এবং একই সময়ে ২৫৭টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।অপরাধী যে-ই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না: ওসি আতিকুর রহমান মজুমদারউখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, "উখিয়া থানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের বিস্তার রোধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।"তিনি আরও বলেন, "অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপহরণ, মাদক কারবার কিংবা অবৈধ অস্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করে ওসি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং বা যেকোনো অপরাধের তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশকে অবহিত করার জন্য এলাকার সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।বিশ্লেষণ: উখিয়া থানা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে পুলিশের এই তৎপরতার পাশাপাশি মাদক পাচারের রুট বন্ধ করা এবং তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।