প্রবাসে আনিসুরের আকস্মিক মৃত্যু, মরদেহ ফেরাতে সরকারের সাহায্য চায় সহায়-সম্বলহীন পরিবার
সারাদেশ · 2026-11-02T19:52:00.000000Z · মোঃ সাইফুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ: জীবিকার সন্ধানে সুদূর তাইওয়ানে গিয়ে আকস্মিক মারা গেছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার মো. আনিসুর রহমান (৫২)। বর্তমানে নিউ তাইপেই সিটির একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা আছে তাঁর মরদেহ। এদিকে দেশে বাবার মরদেহের প্রহর গুনছে দুই অবুঝ সন্তান, আর শেষবার স্বামীকে দেখার আকুলুতি জানান স্ত্রী শিলা আক্তার। তবে চরম আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মরদেহ দেশে আনার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না পরিবারটি। এ অবস্থায় আনিসুরের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনতে আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনেরা।নিহত আনিসুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মৃত আবুল বাসার মুন্সী ও ফিরোজা বেগমের ছেলে। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর B00373347।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আনিসুর রহমানকে নিউ তাইপেই সিটির 'ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে' ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। চলতি বছরের ২২ জুন জীবিকার তাগিদে ট্যুরিস্ট ভিসায় তাইওয়ান গিয়েছিলেন তিনি।আনিসুরের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর রাতইল গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের স্ত্রী শিলা আক্তার জানান, তাঁদের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে জুম্মী রহমান এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছেলে জারিফ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছে তারা।স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিলা আক্তার। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা। এছাড়া তাইওয়ানে আনিসুরের প্রবাসী বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের মাধ্যমে মরদেহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সমন্বয়ের কথাও জানান তিনি।নিহতের ভাই নাজমুল হক, আজিজুর রহমান ও আফজাল হোসেন বলেন, "নিজেদের খরচে বিদেশ থেকে ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকার মানবিক দৃষ্টিতে পাশে না দাঁড়ালে শেষবারের মতো ভাইয়ের মুখটাও হয়তো দেখতে পাব না।"প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিটুকু নিজ মাটিতে দাফন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত এবং জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী।