শ্রীমঙ্গলের সময়

নির্ধারিত দামে মিলছে না এলপিজি, আবার কি বাড়বে?

অর্থনীতি · 2026-10-27T10:51:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও কোথাও কোথাও ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যেই বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ এবং কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এ প্রস্তাব নিয়ে ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে এলপিজির দাম আবার বাড়বে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন ভোক্তারা।

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নির্ধারিত দামেই সিলিন্ডার কিনতে পারছেন না অনেক ভোক্তা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কোথাও কোথাও তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজির বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ এবং কমিশন বাড়ানোর নতুন প্রস্তাব ঘিরে আবারও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আগামী ২৯ অক্টোবর এ প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি করবে। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য ও যুক্তি পর্যালোচনা করা হবে। তবে গণশুনানি আয়োজনের অর্থ এই নয় যে এলপিজির দাম বাড়ানো হবে। শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও যুক্তি বিবেচনা করে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। কিন্তু নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। ফলে নতুন করে চার্জ ও কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

প্রস্তাবে প্রতি কেজি এলপিজির বোতলজাতকরণ চার্জ ১৫ থেকে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পরিবেশক চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ ৩ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রির ব্যয় কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ভোক্তা পর্যায়ে দাম কতটা প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে বিইআরসির সিদ্ধান্তের ওপর।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, গুদামভাড়া ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এসব ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে চার্জ ও কমিশন বাড়ানো প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন। এ দাবিতে আগে দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। পরে ১৪ অক্টোবর বিইআরসি গণশুনানির আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

অন্যদিকে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি খাতের মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কৃত্রিম সংকটের কারণে এলপিজি বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখতে।

এখন ভোক্তাদের সামনে দুটি বড় প্রশ্ন—প্রথমত, বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া নিশ্চিত করা হবে কি না; দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবিত চার্জ ও কমিশন বৃদ্ধির ফলে সিলিন্ডারের দাম আবার বাড়বে কি না। ২৯ অক্টোবরের গণশুনানিতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে শুনানির আগে নতুন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য নেই। সূত্র: যুগান্তর

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত