একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন, বড় চমক কোন খাতে?
জাতীয় · 2026-11-04T16:00:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৪১ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে। পাশাপাশি তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খনন, পাঁচ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে। এ ছাড়া গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নেও নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একনেকের ষষ্ঠ সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা হিসেবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) রয়েছে। এ কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খননে ৫৯২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এ দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১ হাজার ২০৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট স্থাপনেও ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় খাল পুনঃখনন এবং নির্বাচিত পৌরসভাগুলোতে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন নির্মাণ এবং রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়কে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে।
সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের পাঁচটি প্রকল্প পরিকল্পনামন্ত্রী আগেই অনুমোদন দিয়েছেন। সেগুলোও একনেক সভায় অবহিত করা হয়।