শ্রীমঙ্গলের সময়

দেশে এবার ৬টি শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস, তীব্র হতে পারে ৩টি

জাতীয় · 2026-11-04T13:03:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

চলতি শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চলতি শীত মৌসুমে দেশে সর্বোচ্চ ছয়টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এসব শৈত্যপ্রবাহের সময় দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা কমে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ১ নভেম্বর প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এ ছাড়া দুই থেকে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শীতের শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। বিশেষ করে নদ-নদীর অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা যেতে পারে।

ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী তিন মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। ওই মাসের ৯ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেয়। অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। পরে ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ও অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করে।

অক্টোবর মাসে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় বজ্রসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়াও বয়ে যায়। ২ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ওই মাসের সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত ৬৪ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়।

এ ছাড়া অক্টোবরের বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। ১৭ অক্টোবর সিলেটে ওই মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। অন্যদিকে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৭ অক্টোবর তেঁতুলিয়ায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ, সর্বনিম্ন ও গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, শূন্য দশমিক ৪ ও ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

নভেম্বর মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের মাটির আর্দ্রতা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। বিভাগভেদে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়ার এ পূর্বাভাস তৈরিতে প্রাপ্ত আবহাওয়া উপাত্ত, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের বিশ্লেষণ, জলবায়ু মডেল, এল-নিনো ও লা-নিনার অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত