শ্রীমঙ্গলের সময়

বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন, জেনে নিন ইট-বালু-রড-সিমেন্টের দাম

অর্থনীতি · 2026-11-01T03:10:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন কিংবা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন? নির্মাণের প্রধান উপকরণ রড, অ্যাঙ্গেল, সিমেন্ট, ইট ও বালুর দাম জানা থাকলে বাজেট নির্ধারণ এবং কেনাকাটার সময় দরদাম করতে সুবিধা হবে। রাজধানীর খুচরা বাজারের একটি জরিপে এসব উপকরণের যে দাম পাওয়া গেছে, তা তুলে ধরা হলো।চ

বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন? কিংবা এরই মধ্যে শুরু করেছেন নির্মাণকাজ? তাহলে নির্মাণসামগ্রী কেনার আগে বাজারদর সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। কারণ রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর দামের ওপর বাড়ি নির্মাণের মোট ব্যয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এসব উপকরণের দামে পার্থক্য রয়েছে। দোকান ও কোম্পানিভেদে দরদাম করেও কিছুটা কম দামে কেনার সুযোগ রয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণকাজের মৌসুম শুরু হওয়ায় বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে। বিশেষ করে রড ও স্টিলজাত পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৮৬ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকার মধ্যে। তবে দোকান ও কোম্পানিভেদে দরদাম করে এক থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত কম দামে কেনার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে প্রতি টন অ্যাঙ্গেলের দাম ৯০ হাজার থেকে ৯৮ হাজার টাকা। তবে কোম্পানিভেদে এবং দরদাম করে কোনো কোনো দোকানে ৮৮ থেকে ৮৯ হাজার টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে।

নির্মাণকাজের অন্যতম প্রধান উপকরণ সিমেন্টের প্রতি ব্যাগের দাম ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকা। কোনো কোনো দোকানে ৫১০ থেকে ৫১৫ টাকায়ও সিমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। তুলনামূলক ভালো মানের ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের সিমেন্ট কিনতে প্রতি ব্যাগে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

ইটের বাজারে ভালো মানের এক নম্বর ইট প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি পিস ইটের দাম পড়ছে ১৩ থেকে ১৪ টাকা। অন্যদিকে তুলনামূলক নিম্নমানের দুই নম্বর ইট বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১২ টাকায়।

বালুর ক্ষেত্রে ধরনভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে মোটা আস্তরের বালু প্রতি ঘনফুট বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। তবে বালুর সঙ্গে দেওয়া বস্তা ফেরত দিলে প্রতি ঘনফুটের দাম রাখা হচ্ছে ৩০ টাকা। অন্যদিকে পাকশি বালুর দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি ঘনফুট পাকশি বালু কিনতে খরচ হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। এ ছাড়া ভরাটের বালু প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।

নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে আল্লাহর দান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আমিনুল ইসলাম বলেন, এখন নির্মাণকাজের মৌসুম চলছে। পুরো শীতকাল এবং বর্ষা শুরুর আগপর্যন্ত নির্মাণকাজের ব্যস্ততা থাকবে। এ কারণে ধীরে ধীরে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ছে।

একই কথা জানান আলভী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফারুক। তিনি বলেন, নির্মাণ মৌসুম হওয়ায় গত মাসের তুলনায় এখন একই পণ্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে। বিশেষ করে রড ও স্টিলজাত সামগ্রীর দাম বেশ চড়া। জ্বালানির দাম বাড়ায় এসব পণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। ফলে নির্মাণসামগ্রীর বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

তবে নির্মাণসামগ্রী কেনার আগে একাধিক দোকানে দাম যাচাই করা এবং পণ্যের মান ও ব্র্যান্ড সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। একই পণ্যের দাম দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে কেনাকাটার আগে দরদাম করলে খরচ কিছুটা কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত