শ্রীমঙ্গলের সময়

বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, রয়েছে যে শর্ত

অর্থনীতি · 2026-11-01T02:54:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

দেশের ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন, আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়াতে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)। ২৫ বছর মেয়াদি এ ঋণে পাঁচ বছর রেয়াতকাল থাকছে। উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সুদ দিতে হবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে।

দেশের ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠন ও আর্থিক নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ)। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৪ টাকা হিসাবে এ ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। তবে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক সুদ, ২৫ বছরের পরিশোধকাল এবং পাঁচ বছরের রেয়াতকাল।

‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে। গত ৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার ও আইডিএর মধ্যে এ বিষয়ে অর্থায়ন চুক্তি সই হয়। শনিবার (৩১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ তথ্য জানায়। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে সই করেন।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বার্ষিক ১ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ দিতে হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর রেয়াতকাল হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ এ সময়ের পর থেকে ঋণের মূল অর্থ পরিশোধের বিষয়টি কার্যকর হবে। চুক্তিতে অব্যবহৃত বা উত্তোলন না করা অর্থের ওপর সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ প্রতিশ্রুতি ফি রাখার বিধানও রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে এ ফি থেকে অব্যাহতি দিয়ে আসছে। চলতি অর্থবছরেও এ ছাড় বহাল রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এ অর্থায়নের মূল লক্ষ্য দেশের আর্থিক খাতে একটি কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ব্যাংক খাতের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যাংক পুনর্গঠনের কৌশল তৈরি এবং আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় আমানত সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যাংক পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের কাঠামো উন্নত করা এবং আর্থিক খাতে ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি আমানত সুরক্ষা তহবিলের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জরুরি তারল্য সহায়তা এবং ব্যাংক খাতের তথ্য ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংক খাতের নজরদারিতে তথ্যভিত্তিক ও ঝুঁকিনির্ভর পদ্ধতি চালু, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও প্রকল্পের উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ অর্থায়নের মাধ্যমে আমানতকারীদের সুরক্ষা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলা এবং আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে চুক্তি সইয়ের অর্থ এই নয় যে পুরো অর্থ ইতিমধ্যে বাংলাদেশের হাতে এসেছে; এটি প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন চুক্তি।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত