আগে কখনো রিটার্ন দেননি? এবার কীভাবে শুরু করবেন
অর্থনীতি · 2026-11-01T05:27:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
আগে কখনো আয়কর রিটার্ন না দিলে প্রথমে নিজের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা ও টিআইএন নিবন্ধনের অবস্থা যাচাই করতে হবে। এরপর আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য প্রস্তুত করে এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন ও রিটার্ন জমা দিতে হবে। প্রথমবার রিটার্নদাতার জন্য বিশেষ করদিবস হিসেবে আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ জুন নির্ধারিত রয়েছে।
আগে কখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেননি? প্রথমবার রিটার্ন দেওয়ার কথা ভাবলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—কোথা থেকে শুরু করবেন, টিআইএন লাগবে কি না, কী কী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে, আয় না থাকলে কী দেখাতে হবে এবং অনলাইনে কীভাবে রিটার্ন জমা দেবেন?
বাংলাদেশে প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে শুরু করার আগে নিজের করদাতা হিসেবে নিবন্ধনের অবস্থা, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা, আয়ের উৎস এবং সম্পদের তথ্য বুঝে নেওয়া জরুরি। কারণ প্রথম রিটার্নে দেওয়া তথ্য ভবিষ্যতের করসংক্রান্ত হিসাবের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার—আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া আর আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আপনার আয় ও প্রযোজ্য হিসাব অনুযায়ী কর প্রদেয় না থাকলেও আইনগত কারণে রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে। আবার রিটার্ন জমা দিতে হবে বলেই যে অবশ্যই কর দিতে হবে, এমন নয়।
প্রথমে বুঝুন, আপনার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৬৬ ধারায় কোন কোন ব্যক্তিকে রিটার্ন জমা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণভাবে যাঁদের বার্ষিক আয় সংশ্লিষ্ট করবর্ষের করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাঁদের রিটার্ন জমা দিতে হয়। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারী, নির্দিষ্ট পদে কর্মরত বেতনভোগী ব্যক্তি, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী, ফার্মের অংশীদার এবং আইন অনুযায়ী করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট সেবা, লাইসেন্স, নিবন্ধন বা আর্থিক কার্যক্রমের জন্যও রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। তাই আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেই রিটার্নের প্রয়োজন নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
টিআইএন না থাকলে আগে কী করবেন?
আপনার যদি আগে থেকে টিআইএন না থাকে এবং আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রথমে ই-টিআইএন নিবন্ধন করতে হবে।
টিআইএন হলো করদাতার পরিচিতি নম্বর। বাংলাদেশে এটি সাধারণত ১২ ডিজিটের ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ই-টিআইএন হিসেবে পরিচিত।
টিআইএন নিবন্ধনের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হয়। নিবন্ধনের সময় সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়।
যাঁদের আগে থেকেই টিআইএন রয়েছে, তাঁদের নতুন করে আরেকটি টিআইএন তৈরি করা উচিত নয়। প্রথমে পুরোনো টিআইএন ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।
আগে কখনো রিটার্ন দেননি? এবার কীভাবে শুরু করবেনআগে কখনো আয়কর রিটার্ন জমা দেননি? প্রথমবার রিটার্ন দেওয়ার কথা ভাবলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—কোথা থেকে শুরু করবেন, টিআইএন লাগবে কি না, কী কী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে, আয় না থাকলে কী দেখাতে হবে এবং অনলাইনে কীভাবে রিটার্ন জমা দেবেন?
বাংলাদেশে প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া কঠিন কিছু নয়। তবে শুরু করার আগে নিজের করদাতা হিসেবে নিবন্ধনের অবস্থা, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা, আয়ের উৎস এবং সম্পদের তথ্য বুঝে নেওয়া জরুরি। কারণ প্রথম রিটার্নে দেওয়া তথ্য ভবিষ্যতের করসংক্রান্ত হিসাবের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার—আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া আর আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আপনার আয় ও প্রযোজ্য হিসাব অনুযায়ী কর প্রদেয় না থাকলেও আইনগত কারণে রিটার্ন জমা দিতে হতে পারে। আবার রিটার্ন জমা দিতে হবে বলেই যে অবশ্যই কর দিতে হবে, এমন নয়।
প্রথম ধাপ: আপনার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না বুঝুন
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৬৬ ধারায় কোন কোন ব্যক্তিকে রিটার্ন জমা দিতে হবে, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণভাবে যাঁদের বার্ষিক আয় সংশ্লিষ্ট করবর্ষের করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাঁদের রিটার্ন জমা দিতে হয়। এ ছাড়া সরকারি কর্মচারী, নির্দিষ্ট পদে কর্মরত বেতনভোগী ব্যক্তি, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী, ফার্মের অংশীদার এবং আইন অনুযায়ী করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট সেবা, লাইসেন্স, নিবন্ধন বা আর্থিক কার্যক্রমের জন্যও রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। তাই আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলেই রিটার্নের প্রয়োজন নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
দ্বিতীয় ধাপ: টিআইএন না থাকলে আগে নিবন্ধন করুন
আপনার যদি আগে থেকে টিআইএন না থাকে এবং আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রথমে ই-টিআইএন নিবন্ধন করতে হবে।
টিআইএন হলো করদাতার পরিচিতি নম্বর। বাংলাদেশে এটি সাধারণত ১২ ডিজিটের ইলেকট্রনিক ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা ই-টিআইএন হিসেবে পরিচিত।
টিআইএন নিবন্ধনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয়। যাঁদের আগে থেকেই টিআইএন রয়েছে, তাঁদের নতুন করে আরেকটি টিআইএন তৈরি করা উচিত নয়। প্রথমে পুরোনো টিআইএন ও নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: প্রথম রিটার্নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গুছিয়ে নিন
রিটার্ন পূরণ শুরু করার আগে নিজের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য প্রস্তুত রাখুন। পেশা ও আয়ের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আলাদা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে নিচের তথ্যগুলো কাজে লাগবে।
ব্যক্তিগত তথ্য: টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, নাম, জন্মতারিখ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর।
চাকরি থেকে আয়: বেতন বিবরণী, নিয়োগকর্তার দেওয়া বেতন সনদ এবং উৎসে কর কেটে থাকলে তার প্রমাণ।
ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়: ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, বিক্রয় ও ব্যয়ের তথ্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথি।
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন আয়: ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের বিবরণ, ব্যাংক বা পেমেন্ট গেটওয়ের লেনদেন এবং আয়ের উৎসের তথ্য।
ব্যাংক ও বিনিয়োগ: ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, সঞ্চয়পত্র, আমানত, মুনাফা, লভ্যাংশ এবং কর রেয়াতযোগ্য বিনিয়োগের প্রমাণ।
সম্পদ ও দায়: নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, জমি, বাড়ি, গাড়ি, স্বর্ণালংকার, শেয়ার, ঋণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সম্পদের তথ্য।
সব করদাতার জন্য সব কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। আপনার ক্ষেত্রে যেসব তথ্য প্রযোজ্য, সেগুলো যাচাই করে সঠিকভাবে রিটার্নে উপস্থাপন করতে হবে।
চতুর্থ ধাপ: আয়বর্ষ ও করবর্ষের পার্থক্য বুঝুন
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়বর্ষ ও করবর্ষের পার্থক্য জানা জরুরি। সাধারণভাবে ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে আয়বর্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর পরবর্তী ১২ মাস হলো সংশ্লিষ্ট করবর্ষ।
উদাহরণ হিসেবে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আপনার আয় হলো ২০২৫–২৬ আয়বর্ষের আয়। এই আয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট করবর্ষে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সময়সীমা রয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের FAQ অনুযায়ী, আগে কখনো রিটার্ন জমা দেননি—এমন স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার করদিবস হলো সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৩০ জুন। অর্থাৎ প্রথমবার রিটার্ন দেওয়ার সময় সাধারণ করদাতার ৩০ নভেম্বরের সময়সীমার সঙ্গে এই বিশেষ নিয়মের পার্থক্য বুঝে নিতে হবে।
পঞ্চম ধাপ: অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করুন
২০২৬–২৭ করবর্ষে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে প্রথমে এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হবে—
আপনার ১২ ডিজিটের টিআইএন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য।
নিজের নামে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।
ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার বা স্মার্টফোন।
মোবাইল নম্বরটি নিজের নামে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করতে *১৬০০১# ডায়াল করা যায়। নিবন্ধনের সময় মোবাইলে পাঠানো ওটিপি দিয়ে নম্বর যাচাই করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপ: ই-রিটার্ন ফরম পূরণ করুন
ই-রিটার্ন নিবন্ধন সম্পন্ন হলে টিআইএন ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। এরপর ধাপে ধাপে রিটার্নের তথ্য পূরণ করতে হবে।
১. Assessment Information: প্রথমে সংশ্লিষ্ট করবর্ষ, আয়বর্ষ এবং অন্যান্য মৌলিক তথ্য নির্বাচন করুন।
২. Heads of Income: আপনার আয়ের উৎস অনুযায়ী চাকরি, বাড়িভাড়া, কৃষি, ব্যবসা, মূলধনি লাভ, আর্থিক সম্পদ বা অন্যান্য উৎসের আয় নির্বাচন করুন।
৩. Income Information: নির্বাচিত খাত অনুযায়ী প্রকৃত আয়ের তথ্য দিন। একাধিক উৎস থেকে আয় থাকলে সব প্রযোজ্য উৎসের তথ্য উল্লেখ করুন।
৪. Investment and Expenditure: প্রযোজ্য বিনিয়োগ, কর রেয়াত এবং জীবনযাপনসংক্রান্ত ব্যয়ের তথ্য পূরণ করুন।
৫. Assets and Liabilities: আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে সম্পদ ও দায়ের বিবরণ দিন।
৬. Tax and Payment: উৎসে কাটা কর, অগ্রিম কর এবং আগে পরিশোধ করা করের তথ্য যুক্ত করুন। হিসাব অনুযায়ী অতিরিক্ত কর বাকি থাকলে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন।
৭. Return View and Submit: সব তথ্য পুনরায় যাচাই করে রিটার্ন সাবমিট করুন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। ভুল তথ্য দিয়ে সাবমিট করলে পরবর্তী সময়ে সংশোধন বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে।
সপ্তম ধাপ: রিটার্ন জমার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করার পর acknowledgement receipt বা প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংগ্রহ করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নের কপি, কর পরিশোধের চালান এবং ট্যাক্স সার্টিফিকেটও ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
এই নথিগুলো ভবিষ্যতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে রিটার্ন জমার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজন হতে পারে।
আয় না থাকলে প্রথম রিটার্ন কীভাবে দেবেন?
প্রথমবার রিটার্ন জমা দিতে গিয়ে অনেকেই মনে করেন, আয় না থাকলে রিটার্নে কী লিখবেন? এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রকৃত তথ্য দেওয়া।
আপনার কোনো আয় না থাকলে আয় আছে বলে দেখাবেন না। আবার আয় না থাকলেও ব্যাংকে সঞ্চয়, জমি, বাড়ি বা অন্য সম্পদ থাকলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোর তথ্য দিতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে, একজন ব্যক্তি বর্তমানে চাকরি করেন না, ব্যবসাও নেই। কিন্তু তাঁর ব্যাংক হিসাবে সঞ্চয় রয়েছে। তাহলে আয় না থাকার বিষয়টি এবং ব্যাংক জমার তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্পদের উৎস সম্পর্কে তথ্য বা ব্যাখ্যা প্রয়োজন হলে তা দিতে হবে।
পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, উপহার, উত্তরাধিকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ বা সম্পদ পেয়ে থাকলে সেটির প্রকৃতি অনুযায়ী সঠিক তথ্য উপস্থাপন করুন। অনুমান করে কোনো অঙ্ক বসানো বা তথ্য গোপন করা উচিত নয়।
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
প্রথমবার রিটার্ন দেওয়ার সময় কিছু সাধারণ ভুল ভবিষ্যতে করসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে।
নিজের প্রকৃত আয় ও আয়ের উৎস গোপন করবেন না।
ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য বাদ দেবেন না।
উৎসে কাটা করের প্রমাণ ছাড়া কর সমন্বয়ের দাবি করবেন না।
আয়বর্ষ ও করবর্ষ গুলিয়ে ফেলবেন না।
অন্যের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে ই-রিটার্ন নিবন্ধনের চেষ্টা করবেন না।
রিটার্ন সাবমিট করার আগে সব তথ্য পুনরায় যাচাই করুন।
রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও কর পরিশোধের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
মনে রাখবেন, ই-রিটার্নে তথ্য পূরণের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ দেখে সঠিক তথ্য দিতে হবে। সব নথি সব ক্ষেত্রে অনলাইনে আপলোড করতে হয় না, তবে যাচাইয়ের প্রয়োজনে সেগুলো নিজের কাছে সংরক্ষণ করা জরুরি।
প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: আগে কখনো রিটার্ন দিইনি, এখন কি সরাসরি অনলাইনে জমা দিতে পারব?
উত্তর: হ্যাঁ। আপনার টিআইএন থাকলে এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এজন্য টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন।
প্রশ্ন: টিআইএন নেই, কিন্তু আয়কর রিটার্ন দিতে চাই। কী করব?
উত্তর: প্রথমে ই-টিআইএন নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ই-রিটার্ন সিস্টেমে প্রবেশ করে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।
প্রশ্ন: আমার কোনো আয় নেই। তারপরও কি প্রথম রিটার্ন দিতে হবে?
উত্তর: আপনার ক্ষেত্রে আয়কর আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করতে হবে। বাধ্যতামূলক হলে আয় না থাকলেও প্রকৃত তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দিতে হবে।
প্রশ্ন: প্রথমবার রিটার্ন জমা দিলে কি অবশ্যই আয়কর দিতে হবে?
উত্তর: না। হিসাব অনুযায়ী কোনো কর প্রদেয় না থাকলে কর পরিশোধের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আলাদা বিষয়।
প্রশ্ন: অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কী প্রমাণ পাওয়া যাবে?
উত্তর: রিটার্ন সাবমিট হলে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র বা acknowledgement receipt পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী রিটার্নের কপি, ট্যাক্স সার্টিফিকেট এবং কর পরিশোধের চালানও ডাউনলোড করা যায়।
প্রশ্ন: প্রথমবার রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য কোথায় যাব?
উত্তর: অনলাইনে জমা দিতে এনবিআরের নির্ধারিত ই-রিটার্ন পোর্টাল ব্যবহার করুন। অনলাইন ব্যবস্থায় নিবন্ধন বা রিটার্ন জমায় সমস্যা হলে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর অফিসের সহায়তা নিতে পারেন।
শেষ কথা
আগে কখনো আয়কর রিটার্ন না দিলেও এবার শুরু করতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রথমে নিজের টিআইএন ও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা যাচাই করুন। এরপর আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য গুছিয়ে এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করে ধাপে ধাপে ফরম পূরণ করুন। সব তথ্য যাচাই করে রিটার্ন জমা দিন এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংরক্ষণ করুন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম রিটার্নে নিজের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার সঠিক চিত্র তুলে ধরা। এতে ভবিষ্যতে আয়কর হিসাব, ব্যাংকিং কার্যক্রম ও প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে করসংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।