ইতালিতে কাজের সুযোগ বাড়াতে কর্মীদের জন্য সরকারের নতুন পরিকল্পনা
জাতীয় · 2026-11-03T11:20:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কর্মীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য চালু প্রশিক্ষণ মডেল দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কর্মীদের ভাষাগত ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য চালু প্রশিক্ষণ মডেল দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে (টিটিসি) সম্প্রসারণের চেষ্টা করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ল্যাঙ্গুয়েজ, সিভিক অ্যান্ড প্রফেশনাল ট্রেনিং ফর স্কিলড মাইগ্রেশন টু ইতালি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠানে ইতালি দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়ে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা শেখাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতালিতে কর্মসংস্থানের জন্য চালু প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে ইতালীয় ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চালুর ক্ষেত্রে দূতাবাসের সহযোগিতা নিতে চায় সরকার। পাশাপাশি অন্যান্য ভাষা শেখানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরকারের কাছে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়। বরং ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের একটি মডেল। ইতালির অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা কাজে লাগিয়ে সরকারি পর্যায়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগিতায় উদ্যোগটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মাহদী আমিন বলেন, তাঁরা পাঁচ থেকে ছয় মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয় ভাষা শিখছেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পেশাগত দক্ষতা, শিষ্টাচার ও নৈতিক মূল্যবোধের প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায় (টিভিইটি) প্রশিক্ষণ মডেলটি সম্প্রসারণের চেষ্টা করবে সরকার।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু নিজেদের কর্মজীবন গড়ছেন না, দেশের জন্যও একটি নতুন মডেল তৈরি করছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীদের দক্ষ করে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রবাসীদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, সরকার ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড চালু করেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার সময় প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীরা সহযোগিতা পাবেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া দক্ষ অভিবাসনের জন্য মন্ত্রণালয় ও সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
মাহদী আমিন বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণার্থীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।