বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত, ডলার সংরক্ষণ করতে পারবে যেসব প্রতিষ্ঠান
অর্থনীতি · 2026-10-26T02:34:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
বিদেশি পর্যটকদের আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজস্ব বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখতে পারবে নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাকি ৮৫ শতাংশ টাকায় রূপান্তর করতে হবে। এ সুবিধা নিতে মানতে হবে নির্ধারিত ব্যাংকিং ও আর্থিক বিধিবিধান।
বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় আয় করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি পর্যটকদের আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-২ থেকে রোববার (২৫ অক্টোবর) জারি করা এক সার্কুলারে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড বা অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখা যাবে। তবে বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে।
যেসব প্রতিষ্ঠান ডলার রাখতে পারবে
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্তের আওতায় বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ গ্রহণ করে এমন বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আসবে। এর মধ্যে রয়েছে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিং মল ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট কার্ড কিংবা অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবেই রাখার সুযোগ পাবে এসব প্রতিষ্ঠান। তবে এই সুবিধা ইচ্ছামতো বৈদেশিক মুদ্রা জমিয়ে রাখার অনুমতি নয়; নির্ধারিত সীমা ও ব্যবহারের শর্ত মেনেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে।
সংরক্ষিত ডলার যেসব কাজে ব্যবহার করা যাবে
সার্কুলার অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে সংরক্ষিত অর্থ ব্যবহার করা যাবে প্রতিষ্ঠানের বৈধ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বিদেশি দায় পরিশোধে। অর্থাৎ, বিদেশে বৈধভাবে পরিশোধযোগ্য চলতি হিসাবের দায় মেটাতে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
তবে সংরক্ষিত অর্থের ব্যবহার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত বিধিবিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগকে অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের অনুমতি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
কর ও ভ্যাট আদায়ে মানতে হবে নিয়ম
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনায় বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের পাশাপাশি কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যথাযথভাবে আদায়ের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট সংগ্রহ করতে হবে।
এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহক শনাক্তকরণ বা কেওয়াইসি, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ও তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সুযোগ
বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্তে সীমিত পরিসরে ডলার সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের সেবা দেওয়া হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ বিদেশি দায় পরিশোধে সংরক্ষিত অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।
তবে মোট আয়ের কত অংশ বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে রাখা যাবে, কোন কাজে তা ব্যবহার করা যাবে এবং কী ধরনের আর্থিক বিধিবিধান মানতে হবে—এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ থাকলেও অবশিষ্ট ৮৫ শতাংশ টাকায় রূপান্তরের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।