শ্রীমঙ্গলের সময়

চার দিনের সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় · 2026-10-26T02:13:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

জাপানের রাজধানী টোকিওতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটটি নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে সীমিতসংখ্যক সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের এই সফরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে পৌঁছানোর দিনই প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ সংবাদ বিবৃতি প্রকাশের কথা রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

সফরের আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের (ইপিএ) কার্যকর বাস্তবায়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম গত ২০ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন তিনি। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে। এ ছাড়া জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, সফর চলাকালে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানি সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে দুই দেশ। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও সফরসঙ্গী হিসেবে জাপান গেছেন।

১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। জাপানের সহায়তায় ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। দুই দেশের দীর্ঘদিনের এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অংশীদারত্বে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত