শ্রীমঙ্গলের সময়

বিরোধীদলে থেকেই দাফনে বাধা, ক্ষমতায় গেলে কী করবে জামায়াত: তাসনিম জারা

রাজনীতি · 2026-10-26T03:44:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তাঁর অভিযোগ, মানিক পশারীকে নিজ গ্রামে দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বিরোধীদলে থেকেই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তাঁর নিজ বসতভিটায় দাফন করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কী করবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। পিরোজপুরের ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে পোস্টে বিস্তারিত লিখেছেন তাসনিম জারা।

তিনি বলেন, সাধারণত কারও মৃত্যু হলে দাফনের কাজে প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেন। কিন্তু মানিক পশারীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দাফনের জন্য খোঁড়া কবর একপর্যায়ে ভরাট করে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি অন্যদেরও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির মেয়ে ও বোনেরা নিজেরাই আবার কবর খোঁড়েন। পরে রাত গভীর হলে পুলিশি পাহারায় সেই কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যদের নিজেদের হাতে কবর খোঁড়ার বিষয়টিকে মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সহমর্মিতার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

মানিক পশারী একজন সরকারি গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করেন তাসনিম জারা। তিনি লেখেন, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেছিলেন। তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা গার্ড অব অনার দেওয়া এবং পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতাও করা হয়েছিল বলে পোস্টে অভিযোগ করেন তিনি।

তাসনিম জারার মতে, কারও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা যাচাই করার জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও আদালত রয়েছে। কিন্তু সেই প্রশ্নের মীমাংসা দাফন আটকে দেওয়া বা জনসমক্ষে প্রচার চালানোর মাধ্যমে হওয়া উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

পোস্টে তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর পর একজন মানুষকে ক্ষমা করে দেওয়ার যে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি প্রচলিত রয়েছে, মানিক পশারীর পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। নিজের গ্রামে জানাজা ও দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিবারকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে এ ঘটনার তুলনা করে তাসনিম জারা লেখেন, দলটি নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদার কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করছে না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে ইনসাফের কথা বলা হলেও মানিক পশারীর দাফন ঘিরে আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তাঁর মতে, এখন সেই দলের নেতাকর্মীদের কারও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দাফনের স্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক।

তবে মানিক পশারীর দাফন নিয়ে জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের বক্তব্যও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাকের বরাতে বলা হয়েছে, তিনি মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক সোহরাব হোসেন জুয়েল দলীয়ভাবে দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাফন সম্পন্ন করতে পুলিশকে সহযোগিতা করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

সবশেষে তাসনিম জারা প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদলে থাকা অবস্থায়ই যদি কোনো পরিবারের সদস্যকে নিজের বসতভিটায় দাফন করতে বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা জামায়াতে ইসলামীর হাতে গেলে পরিস্থিতি কী হতে পারে। মানিক পশারীর দাফন ঘিরে ঘটনাটিকে তিনি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ব্যবহারের বৃহত্তর প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত