ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে তিন বিভাগে বৃষ্টির শঙ্কা
জাতীয় · 2026-10-26T01:55:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট
পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এদিকে সোমবার চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শক্তি বাড়িয়ে এটি ২৭ অক্টোবর তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং ২৮ অক্টোবর অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের দিকে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশে সোমবার চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ ও শক্তি বৃদ্ধির বিষয়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া এবং এর পরবর্তী গতিপথের পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরবর্তী হালনাগাদ আবহাওয়া বুলেটিনের ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলেও পরে গতিপথ পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে।
গভীর নিম্নচাপটির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাগর উত্তাল থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্কসংকেত ১ দেখিয়ে যেতে বলেছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সোমবারের বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব এবং বৃষ্টির পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো সতর্কতা বা পূর্বাভাস দেওয়া হলে তা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, তীব্রতা ও উপকূল অতিক্রমের সময় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে সমুদ্রগামী নৌযান, জেলে ও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি সতর্কবার্তা মেনে চলা উচিত।