শ্রীমঙ্গলের সময়

বাংলাদেশের ব্যর্থতায় চাপে হাবিবুল বাশার, নির্বাচক প্যানেলে বড় পরিবর্তনের আভাস

খেলা · 2026-10-26T01:46:14.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার মধ্যে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচক প্যানেলের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা উঠলেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। এখন বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট মহলের।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ঘিরে এবার চাপে পড়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হচ্ছে, দলের সাম্প্রতিক ফলাফল নিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল নির্বাচক প্যানেলের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট। খেলোয়াড় নির্বাচন, দল গঠন এবং প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে নির্বাচকদের ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনার চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচক হিসেবে হাবিবুল বাশারের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁর পদ নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলের দায়িত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। একটি জাতীয় দলের সাফল্যের পেছনে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সঠিক দল নির্বাচন, উপযুক্ত সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন খেলোয়াড়কে কোন সংস্করণে সুযোগ দেওয়া হবে, কার ওপর কতটা আস্থা রাখা হবে এবং দলের দুর্বলতা অনুযায়ী কী ধরনের সমন্বয় তৈরি করা হবে, এসব সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যাশিত ফল না এলে স্বাভাবিকভাবেই এসব সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। নির্বাচক প্যানেলের সিদ্ধান্তগুলো দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা মূল্যায়ন করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের জন্য পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় বাছাই এবং বিভিন্ন সিরিজের উপযোগী দল গঠনের ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দেওয়া এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে হয় তাঁকে। একই সঙ্গে দলের বর্তমান চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে সমন্বয় রাখাও নির্বাচক প্যানেলের অন্যতম কাজ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় এই দায়িত্ব পালনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বোর্ড যদি নির্বাচক প্যানেলের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে হাবিবুলের অবস্থানও সেই পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।

এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোচিং স্টাফের দায়িত্বে পরিবর্তনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার নির্বাচক প্যানেলেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কোচিং স্টাফ ও নির্বাচক প্যানেল আলাদা দায়িত্ব পালন করলেও জাতীয় দলের সামগ্রিক সাফল্যের সঙ্গে উভয়ের কাজ নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কোচেরা মাঠের প্রস্তুতি, কৌশল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নয়নে কাজ করেন; অন্যদিকে নির্বাচকেরা দল গঠন ও খেলোয়াড় বাছাইয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর বোর্ড ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তনের চিন্তা সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়।

হাবিবুল বাশার ও তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের সামনে এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিরিজে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করে, দল নির্বাচন কতটা কার্যকর হয় এবং খেলোয়াড়েরা প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের মেলে ধরতে পারেন কি না, সেদিকে নজর থাকবে ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট মহলের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি সিরিজই দলের শক্তি ও দুর্বলতা মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে। তবে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরবর্তী সিরিজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়, কারণ সেখানে ফলাফলের পাশাপাশি নির্বাচকদের পরিকল্পনার কার্যকারিতাও আলোচনায় আসে। বাংলাদেশ যদি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়, তাহলে বর্তমান দল গঠন ও পরিকল্পনার পক্ষে ইতিবাচক যুক্তি তৈরি হতে পারে। বিপরীতে, আবারও হতাশাজনক ফল এলে নির্বাচক প্যানেলের দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

বিসিবির জন্য নির্বাচক প্যানেল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সাম্প্রতিক ফলাফল নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি দল কয়েকটি ম্যাচে ব্যর্থ হলেই সব ক্ষেত্রে নির্বাচকদের দায়ী করা যায় না; খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, ইনজুরি, প্রতিপক্ষের শক্তি এবং ম্যাচের পরিস্থিতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলে। তবে ভুল দল নির্বাচন, ধারাবাহিকভাবে দুর্বল সমন্বয় কিংবা যোগ্য খেলোয়াড়দের যথাযথ সুযোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ার মতো বিষয় থাকলে সেগুলোর মূল্যায়ন প্রয়োজন। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ক্ষেত্রেও এমন মূল্যায়ন করা হলে বোর্ডের সামনে পরিবর্তন আনা কিংবা বর্তমান ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার সুযোগ থাকবে। নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তন হলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে দলের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড় বাছাইয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আসতে পারে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচক প্যানেলের কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই সিরিজে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে না পারলে নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তনের দাবি আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ভালো ফলাফল এলে বর্তমান দল নির্বাচন ও পরিকল্পনা নিয়ে ইতিবাচক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ও বোর্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখন পর্যন্ত হাবিবুল বাশারকে বরখাস্ত করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর চাকরি হারানোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ফলাফল এবং বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে নির্বাচক প্যানেলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত