শ্রীমঙ্গলের সময়

শ্রমিক বিক্ষোভে পালটাপালটি ধাওয়া, সংঘর্ষে উত্তপ্ত গাজীপুর

সারাদেশ · 2026-11-03T08:37:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোর ও ভোগরা বাইপাস এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ৫০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে নাওজোর ও ভোগরা বাইপাস এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে কিছু সময় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও সকাল পৌনে ১০টার পর নাওজোর এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে সোমবারও নাওজোর এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই দিন একাধিক পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকার বিভিন্ন স্থানেও শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। তবে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অন্যান্য দিনের মতো মহাসড়ক অবরোধ না থাকলেও সেখানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের ৫০টি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।

কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এম এম কারখানার শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এগিয়ে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, কিছু এলাকায় শ্রমিক আন্দোলন চলছে। এখন পর্যন্ত ৫০টি কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। নাওজোর এলাকায় শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়ি, বিভিন্ন যানবাহন ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত