শ্রীমঙ্গলের সময়

যুদ্ধ এড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে, ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি গালিবাফের

বিশ্ব · 2026-11-03T09:30:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়ানোর সিদ্ধান্ত এখন ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর দাবি, তেহরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত জবাব দিয়েছে। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন কোনো কৌশলগত ভুল করলে মার্কিন বাহিনীকে নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন গালিবাফ। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর জানা উচিত, ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং একই সঙ্গে কূটনৈতিক অবস্থান থেকেও নিজেদের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে।

গালিবাফের ভাষায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী ও যুক্তিসংগত জবাব দিয়েছে। এখন যুদ্ধ এড়ানোর বল ওয়াশিংটনের কোর্টে। অর্থাৎ নতুন করে সংঘাত শুরু হবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

ইরানের এই পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও কৌশলগত ভুল করে, তাহলে মার্কিন সেনাদের নতুন একটি যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হতে হবে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে ওয়াশিংটনকে আরও কঠিন অবস্থায় পড়তে হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানকে সামরিক হুমকি দিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরানো সম্ভব নয়। তেহরান একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও ধরে রেখেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে হরমুজ প্রণালি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয়গুলোতে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে গালিবাফের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কূটনৈতিক বার্তার পাশাপাশি সামরিক সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, আনাদোলু এজেন্সি

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত