স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নে বিষ ঢালল দুর্বৃত্তরা, পুকুরে মরল ১০ লাখ টাকার মাছ
সিলেটের খবর · 2026-10-30T19:40:12.000000Z · জেলা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি বাণিজ্যিক মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এতে পাঙ্গাশ, মাগুর ও গুলশাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে। নিজেদের জমানো টাকা ও ঋণের অর্থে গড়ে তোলা খামারটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চার তরুণ উদ্যোক্তা।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি বাণিজ্যিক মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় পাঙ্গাশ, মাগুর ও গুলশাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠেছে। নিজেদের জমানো পুঁজি ও ঋণের অর্থে গড়ে তোলা খামারটি এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চার তরুণ উদ্যোক্তা।
উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চিকসা গ্রামে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার ভোররাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে পুকুরজুড়ে মরা মাছ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের খবর দেন।
ক্ষতিগ্রস্ত চার তরুণ হলেন চিকসা গ্রামের বাসিন্দা এবিএম বখতিয়ার, তৌহিদুল মিয়া, মুক্তার হোসেন ও মানিক মিয়া। উদ্যোক্তারা জানান, পড়াশোনা শেষে বেকারত্ব দূর করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ও স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় চার বন্ধু মিলে মাছ চাষের উদ্যোগ নেন। নিজেদের জমানো সঞ্চয়ের পাশাপাশি ধারদেনা ও ঋণের টাকা একত্র করে গ্রামের একটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন তাঁরা।
খামারে পাঙ্গাশ, মাগুর ও গুলশাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করায় সব মাছ মারা যায় বলে অভিযোগ তাঁদের। মাছের পাশাপাশি বিষক্রিয়ায় পুকুরের কাঁকড়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীও মারা গেছে। সকালে পুকুরপাড়ে গিয়ে পানিতে তীব্র বিষের গন্ধ পান বলে জানান উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ ও ঋণের টাকায় গড়ে তোলা খামার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত তরুণেরা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। কিন্তু পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধন করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের দ্রুত থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক আহমেদ জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনায় খামারিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।