শ্রীমঙ্গলের সময়

নেতানিয়াহুকে হটাতে বিরোধীদের পাশে থাকার প্রস্তাব আরব জোটের

বিশ্ব · 2026-10-29T16:05:00.000000Z · ডেস্ক রিপোর্ট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির আরব রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট। তবে গাজায় যুদ্ধ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নীতির কারণে কোনো জোট সরকারে সরাসরি অংশ নিতে চায় না দলটি। নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিডল ইস্ট মনিটর ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু সরকারের অবসান ঘটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগকে তাঁরা বাইরে থেকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

জাবারিনের ভাষ্য, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনো ইসরায়েলি সরকারের অংশ হওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকারকে সংসদে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও সামাজিক দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর সমর্থক জোট ৫৩টি আসন এবং বিরোধী শিবির ৪৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল মিলিয়ে ১৯টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। ফলে কোনো পক্ষের পক্ষেই আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন সহজ নয়।

বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোটের সামনে এখন সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ। আরব দলগুলোর বাইরে থেকে সমর্থন পেলে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের পথ তৈরি হতে পারে। তবে বিরোধী জোটের সব দল আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় আগ্রহী নয়।

জয়েন্ট লিস্টের সমর্থনের বিনিময়ে কয়েকটি শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে আরব অধ্যুষিত শহরগুলোতে অপরাধ ও সহিংসতা কমাতে অর্থায়নসহ কার্যকর পরিকল্পনা, বাড়িঘর ভাঙা বন্ধ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দাবি রয়েছে। জাবারিন জানিয়েছেন, তাঁদের সমর্থন নিঃশর্ত হবে না।

এদিকে নির্বাচনের ফল নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, ভোটের ফল নিয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তবে অভিযোগগুলোকে এখন পর্যন্ত প্রমাণিত জালিয়াতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়েছে—এমন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভোটের দিন অর্থ লেনদেন ও রা’আম দলের ব্যালটসংক্রান্ত অভিযোগে তিনজনকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় অভিযোগ ও প্রমাণিত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। রা’আম ও বিরোধী শিবির নেতানিয়াহুর পক্ষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিরোধী জোটের ভেতরেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান আরব প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করে সরকার গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে আইজেনকোটের শিবিরের কয়েকজন নেতা এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

এখন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সমর্থন নিয়ে বিরোধী শিবির কতটা এগোতে পারে, তার ওপর ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করছে। তবে আসনসংখ্যার হিসাবের পাশাপাশি আরব দলগুলোর শর্ত এবং বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত