শ্রীমঙ্গলের সময়

বারহাট্টায় অভিযোগের মধ্যেই সার ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ০৫:২৮পি.এম. | অক্টোবর ২৪

সারাদেশ · 2026-10-24T12:59:21.000000Z · স্টাফ রিপোর্টার

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) নতুন সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই পরিবারের সদস্যের নামে আগে থেকেই সার ডিলারশিপ থাকার তথ্য এবং নতুন আবেদনকারীর বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তার সার বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানার ঘটনা উল্লেখ করে আবেদন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেই নতুন ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে আবেদনকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাহতা ইউনিয়নে মাইন উদ্দিন ট্রেডার্স নামে আগে থেকেই একটি বিএডিসি সার ডিলারশিপ রয়েছে। একই পরিবারের সদস্য মোমিন মিয়ার নামে হেলুচিয়া বাজারের মেসার্স মোমিন ট্রেডার্সের জন্য নতুন ডিলারশিপের আবেদন করা হয়।

এদিকে, গত ২০ আগস্ট বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আওতায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা এমওপি সার দোকানে মজুত রেখে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মোমিন মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বলে জানা গেছে।

আবেদন বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, একই পরিবারের সদস্যের নামে আগে থেকে ডিলারশিপ থাকা এবং আবেদনকারীর বিরুদ্ধে জরিমানার ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন ছিল। এসব বিষয় উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে অভিযোগ দায়েরের পরও নতুন ডিলার নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে মেসার্স মোমিন ট্রেডার্সের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।

অন্যদিকে, মেসার্স মোমিন ট্রেডার্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়ম মেনেই ডিলারশিপের জন্য আবেদন করা হয়েছে। একই পরিবারের সদস্য হলেও তাঁরা আলাদাভাবে বসবাস করেন।

মোমিন মিয়ার বড় ভাই মহিম উদ্দিনের দাবি, তাঁদের বাবার নামে ডিলারশিপ থাকলেও মায়ের নামে কোনো ডিলারশিপ নেই। তবে মোমিন মিয়ার আবেদনে মহিম উদ্দিনের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বারহাট্টা উপজেলা সার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক পাওয়ায় আবেদনকারীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। তবে আবেদনে কোনো তথ্য গোপন করা হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট সার বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমে প্রসিকিউটর হিসেবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে ওই ঘটনার তথ্য নতুন ডিলার নিয়োগের আবেদন যাচাইয়ের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সাম্প্রতিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত